![]()
‘আমি জানি না, কাল আমি বেঁচে থাকব কি না। জীবনের শেষ প্রান্তে সবাইকে পৌঁছাতেই হবে। তবে তার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত যা করতে চেয়েছিলাম, তা কি করতে পেরেছি?’
মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগে এক অনুষ্ঠানে জীবন ও মৃত্যু নিয়ে এমনই আবেগঘন মন্তব্য করেছিলেন ভারতের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার। শেষ পর্যন্ত তার সেই আশঙ্কা ও উপলব্ধিই যেন সত্যি হলো। বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ায় নিজের বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৫ বছর বয়সী এই অভিনেতা।
মৃত্যুর চার দিন আগে, গত ৪ অক্টোবর গোয়ার ডোনা পাউলায় ‘সম্রাট ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল’-এর একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন নানা পাটেকার। সাদা কুর্তা ও স্কার্ফ পরা সেই অনুষ্ঠানে দেওয়া তার শেষ বক্তব্যটি এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
অনুষ্ঠানে প্রয়াত বন্ধু ও গোয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পার্রিকরকে স্মরণ করে জীবনের নশ্বরতা, সমাজের প্রতি দায়িত্ব এবং মতপ্রকাশের শালীনতা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
নিজের জীবনের উপলব্ধি তুলে ধরে নানা পাটেকার বলেন, ‘আমাদের সবার জগত যদি শুধু স্ত্রী, সন্তান আর পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে এই জীবনের অর্থ কী? সমাজকে কিছু তো ফিরিয়ে দিয়ে যেতে হবে, তাই না?’
মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনসম্মুখে শালীনতার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। নরেন্দ্র মোদির প্রসঙ্গ টেনে নানা বলেন, ‘তার কিছু আদর্শ আমার পছন্দ, আবার কিছু একদম পছন্দ নয়। সেটা স্পষ্ট করে বলার সাহস থাকতে হবে। তিনি যা করেন, সবই যে ভুল, তা নয়। কোনো কিছু অপছন্দ হলে প্রতিবাদ করা জরুরি, তবে সেই প্রতিবাদের ভাষাও শালীন হওয়া চাই।’
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত পরিসরে মানুষ একে অপরকে নানা কথা বলতে পারে, কিন্তু জনসম্মুখে কথা বলার সময় ন্যূনতম শালীনতা বজায় রাখা জরুরি। তা না হলে বক্তব্যের গুরুত্ব কমে যায়।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর নানা পাটেকারকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর দিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়া হয়।
বাবার মৃত্যুর সময় নানা পাটেকারের ছেলে মালহার পাটেকার পুনেতে ছিলেন। খবর পেয়ে তিনি গোয়ার উদ্দেশে রওনা হন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ সময়: ১২:২৫:১০ ৮ বার পঠিত