
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ।
আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত ‘বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতি’ শীর্ষক দিনব্যাপী আর্ট ক্যাম্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। জাদুঘর প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
আর্ট ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ছাত্র-জনতা, খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুরসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের সম্মিলিত আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, জুলাই জাদুঘর তার স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের বাইরে গিয়ে চিত্রশিল্পীদের নিয়ে আর্ট ক্যাম্প আয়োজনের মাধ্যমে একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, চিত্রশিল্পীরা জাদুঘর প্রাঙ্গণে গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ছবি আঁকছেন। দর্শনার্থীরা সেগুলো ঘুরে দেখছেন এবং শহীদদের আত্মত্যাগের ব্যাখ্যা জানছেন। জাদুঘর এসব শিল্পকর্ম সংরক্ষণ করবে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতিচর্চার অভিপ্রায় তৈরি হয়েছিল, এই আর্ট ক্যাম্প তাতে তাৎপর্যপূর্ণ মাত্রা যোগ করেছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ বলেন, বর্তমানে যে প্রাঙ্গণে আর্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেটি একসময় স্বৈরাচারী সরকারের কার্যক্রম পরিচালনার জায়গা ছিল। এ স্থানটি ফ্যাসিবাদের একটি প্রতীক। ফলে এখানে আর্ট ক্যাম্প আয়োজনের ভিন্ন তাৎপর্য রয়েছে।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে শিল্প-সাহিত্যকে ব্যবহার করে নাগরিকদের অধিকার ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে, অনেক চেষ্টা করলেও ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না।
এহসান মাহমুদ বলেন, গত ১৬ বছরে শিল্প-সাহিত্যকে ব্যবহার করে নাগরিকদের সবকিছু ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতির লড়াই করতেই এ আয়োজন।
আর্ট ক্যাম্পে অংশ নেওয়া শিল্পীরা হলেন- নাসিম আহমেদ নাদভী, নাইমা হক, সামিয়া আফরিন, জয়তু চাকমা, এ. সেন, ইমাম হোসেন, নাজিয়া আন্দালীব প্রমা, কাজী সালাউদ্দীন আহমেদ, খন্দকার নাছির আহম্মদ, আব্দুল হালিম চঞ্চল, তামান্না লিজা, অমল আকাশ, মোস্তফা জামান, মোস্তাফিজুল হক, ফারজানা আহমেদ উমা, সৈয়দ জাহিদ ইকবাল, ফারিয়া খানম, মো. আরমান চৌধুরী, নাজমুন নাহার পায়া, সুমন হালদার, মোমিন মুক্তার ও জাফরিন গুলশান প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:০৩:৫১ ৮ বার পঠিত