বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

জাপানে কর্মসংস্থানে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » জাপানে কর্মসংস্থানে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬



জাপানে কর্মসংস্থানে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ

বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের জাপানি ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশটিতে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে জাপানের ওনোদেরা ইউজার রান কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম), ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক সোশ্যাল ফাইন্যান্স (আইআইএসএফ) ও রহিমআফরোজ।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় চার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রস্তাবিত কেন্দ্রের মাধ্যমে বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের তরুণ-তরুণীদের জাপানি ভাষা, পেশাগত দক্ষতা ও দেশটির কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশ ও জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণ এবং টেকসই জীবিকা অর্জনের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সমঝোতা স্মারকে ওনোদেরা ইউজার রান কোম্পানি লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুন কাতো, সিজেডএমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া, আইআইএসএফের ভাইস চেয়ারম্যান আরাস্তু খান এবং রহিমআফরোজের গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর নিয়াজ রহিম স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে ঢাকায় জাপান দূতাবাসের মিনিস্টার আয়া ইয়োশিদা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্যোগের আওতায় ওনোদেরা ইউজার রান জাপানি ভাষা শিক্ষা, কর্মসংস্থানমুখী প্রস্তুতি এবং জাপানের কর্মক্ষেত্রের আচরণবিধি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেবে। জাপানে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান খাতে প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে।

সিজেডএম সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে উপযুক্ত তরুণ-তরুণীদের চিহ্নিত করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত করতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও বৃত্তির সুযোগ তৈরিতে সহযোগিতা করবে প্রতিষ্ঠানটি। দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যেও এ উদ্যোগকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

আইআইএসএফ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষার পরিবেশ ও অবকাঠামোগত সহায়তা দেবে। অন্যদিকে রহিমআফরোজ কৌশলগত সহায়তা প্রদান করবে। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে জুন কাতো বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের অধ্যবসায়, নিষ্ঠা ও সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেয় তাদের প্রতিষ্ঠান। এ উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের জাপানি ভাষায় দক্ষতা অর্জন, ব্যবহারিক পেশাগত যোগ্যতা উন্নয়ন এবং জাপানের কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এতে তারা অর্থবহ কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণ ও কর্মক্ষেত্রে সফলভাবে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে পারবেন।

নিয়াজ রহিম বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে অপরিসীম সম্ভাবনা রয়েছে। অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা একত্র করে তাদের ভাষাগত যোগ্যতা, প্রাসঙ্গিক দক্ষতা ও দায়িত্বশীল কর্মচর্চার সঙ্গে আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগের সংযোগ ঘটাতে চান তারা। এ উদ্যোগ তরুণদের ক্ষমতায়ন ও টেকসই জীবিকা অর্জনে অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বলেন, প্রাসঙ্গিক দক্ষতা, মানসম্মত প্রশিক্ষণ ও বিশ্বাসযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তরুণ-তরুণী এবং তাদের পরিবারের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের কর্মসংস্থানের প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও মর্যাদা অর্জনে সহায়তা করা হবে।

জাপান দূতাবাসের মিনিস্টার আয়া ইয়োশিদা বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন শ্রমবাজার থেকে দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহী জাপান। তবে দেশটিতে সফলভাবে কাজ করার জন্য জাপানি ভাষায় দক্ষতা, প্রাসঙ্গিক পেশাগত যোগ্যতা এবং জাপানের সংস্কৃতি ও কর্মক্ষেত্রের রীতিনীতি সম্পর্কে যথাযথ ধারণা থাকা জরুরি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগের মধ্যকার ব্যবধান কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। জাপানের কর্মসংস্থান খাতের অভিজ্ঞতা, সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রম, শিক্ষার অবকাঠামো এবং বেসরকারি খাতের সহায়তা কাজে লাগিয়ে তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরিই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:০০:০২   ২৮ বার পঠিত   #