শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

আরব পাঠ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়ল শিশু মায়ার

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » আরব পাঠ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়ল শিশু মায়ার
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬



আরব পাঠ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়ল শিশু মায়ার

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আরব রিডিং চ্যালেঞ্জ’-এর দশম আসরে প্রথম স্থান অর্জন করেছে মিসরের শিক্ষার্থী মায়ার ওসমান। বিজয়ীর নাম ঘোষণার পরপরই মঞ্চে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে।
তার এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতার দশম আসরের বিজয়ী হিসেবে মায়ার ওসমানের নাম ঘোষণা করা হয়। এ সময় তার পাশে উপস্থিত ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। তিনি মায়ারের হাতে বিজয়ীর সম্মাননা তুলে দেন।

প্রতিযোগিতা চলাকালে ৬০টিরও বেশি বই পড়েছেন ১১ বছর বয়সী মায়ার। প্রথম স্থান অর্জন করে তিনি পেয়েছে ৫ লাখ দিরহাম পুরস্কার। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে ফিলিস্তিনের ১৬ বছর বয়সী গাজাল তিম এবং তৃতীয় হয়েছে সৌদি আরবের ১১ বছর বয়সী রিয়ান আল জাকরি।

প্রতিযোগিতার আয়োজকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পরপরই মায়ার মাটিতে সিজদা করে।
তার এই আবেগঘন মুহূর্তটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

মিসরের উত্তরাঞ্চলীয় কাফর আল-শেখ প্রদেশের বাসিন্দা মায়ার ওসমান দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত বাছাইপর্বে বিজয়ী হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

বিজয়ী হওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে মায়ার জানায়, পুরস্কারের অর্থ দিয়ে তিনি নিজের স্কুলে একটি ছোট লাইব্রেরি গড়ে তুলতে চান। যেন বই পড়তে আগ্রহী প্রতিটি শিক্ষার্থী সেখানে এসে বই পড়ার সুযোগ পায়।

সে বলে, ‘আমি পিরামিড ও সভ্যতার দেশ থেকে এসেছি।
আমি মিসরের মেয়ে, আরব বিশ্বের হৃদয়ের সন্তান। আমি ৭০টিরও বেশি বই পড়েছি এবং পড়া চালিয়ে যাব।’

পাঠাভ্যাস নিজের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে উল্লেখ করে মায়ার বলে, বই তাকে নতুন চিন্তা ও ধারণা দিয়েছে এবং ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়তা করেছে। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সময়ের সঠিক ব্যবহার, পড়াশোনা ও বই পড়ার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার মতো বিষয়ও শিখেছে সে।

মায়ারের ভাষায়, প্রকৃত পাঠক শুধু বই বহন করেন না; বরং বই থেকে অর্জিত জ্ঞান নিজের জীবনে প্রয়োগ করেন এবং অন্যদের জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করেন।

এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়ামের তথ্য অনুযায়ী, ‘আরব রিডিং চ্যালেঞ্জ’ প্রতিযোগিতার দশম আসরে ৬০টি দেশের ৪ কোটি ২৮৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এ ছাড়া ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ১ লাখ ৬১ হাজার ৫০৭ জন শিক্ষক ও তত্ত্বাবধায়ক এ আয়োজনে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মধ্যে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৭৪ হাজার ৬২ জন।

প্রতিযোগিতাটির আয়োজকরা জানিয়েছেন, দশম আসরে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আগের আসরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৫ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রতিযোগিতাটির দশটি আসরে ২০ কোটি ৩০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।

‘আরব রিডিং চ্যালেঞ্জ’ মূলত আরবি ভাষায় পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের বোঝার ক্ষমতা, বিশ্লেষণ ও প্রকাশের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০১৫ সালে চালু করা হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের ৫০টি বই পড়া ও সেগুলোর সারসংক্ষেপ তৈরি করতে হয়। এরপর বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধাপের বাছাই পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিতে হয়।

তথ্যসূত্র : দ্য ন্যাশনাল

বাংলাদেশ সময়: ১৬:০৭:৪৩   ১৮ বার পঠিত