
সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন আজ চট্টগ্রাম সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। এসময় তিনি সমাজের অবহেলিত ও অধিকার বঞ্চিত শিশুদের সমাজের মূল ধারায় পুনর্বাসনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণারোপ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো- অবহেলিত, অধিকার বঞ্চিত, পরিত্যক্ত, পিতামাতাহীন- এই সমস্ত বাচ্চাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং দিনশেষে তাদেরকে সমাজে পুনর্বাসন করা।’
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামের সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রটি পরিদর্শন করার সময় এ কথা বলেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী।
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, এখানকার বাচ্চাদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে কতোটুকু হচ্ছে, সেগুলো দেখার জন্যই মূলত ফরহাদাবাদে আসা।
পথশিশু ও ভিক্ষাবৃত্তি করা শিশুদের পুনর্বাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পথশিশু ও ভিক্ষাবৃত্তি করা শিশুদের পুনর্বাসনের জন্য তাদেরকে সবার আগে সাইকোসোশ্যাল মোটিভেশনের আওতায় আনতে হবে। এছাড়া তাদের পুনর্বাসন করা সম্ভব না। সে লক্ষ্যে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করছি।’
এর আগে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি পেয়ারা গাছ রোপণ করেন। পরে হলরুমে শিশুদের আঁকা দেয়ালিকার ১২তম সংখ্যা ‘আলোকবর্তিকা’ উন্মোচন করেন তিনি।
সেখানে বালক-বালিকারা বাংলাদেশের পতাকার রঙের পোশাক পরে ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি-বাংলাদেশের নাম’সহ কয়েকটি গানের নৃত্য পরিবেশন করেন।
চট্টগ্রাম সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আক্তার বলেন, এখানে পথশিশু, শ্রমজীবী শিশু, গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশু, পিতামাতাহীন শিশু, পরিত্যক্ত শিশু, পাচার থেকে উদ্ধারকৃত শিশু, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু ও প্রতিবন্ধী শিশুসহ এরকম ১৬ ধরণের শিশু থাকে।
তিনি বলেন, আমরা তাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, জীবনমান উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ ইত্যাদি সেবার মাধ্যমে সমাজের মূল ধারায় পুনর্বাসনের চেষ্টা করছি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন ও চট্টগ্রাম সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের উপ-প্রকল্প পরিচালক জেসমিন আক্তারসহ আরও অনেকেই।
চট্টগ্রাম সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১২ সালের ১২ আগস্ট। এরপর থেকে এ পর্যন্ত কেন্দ্রটি থেকে ২ হাজার ২৪টি শিশু সেবা নিয়েছে। এরমধ্যে ১ হাজার ৩৭৮টি শিশু বিভিন্নভাবে পুনর্বাসিত হয়েছে এবং ৫০০টি শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে কেন্দ্রটিতে ১০০ জন বালক এবং ১০৪ জন বালিকা শিশু রয়েছে। তাদের বয়স সর্বনিম্ন ৬ থেকে সর্বোচ্চ ১৮ পর্যন্ত।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:১৩:৩৭ ১২ বার পঠিত