শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

জামালপুরে যৌনপল্লীতে সাড়ে ৬ কেজি গাঁজাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » জামালপুরে যৌনপল্লীতে সাড়ে ৬ কেজি গাঁজাসহ দুইজন গ্রেপ্তার
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬



জামালপুরে যৌনপল্লীতে সাড়ে ৬ কেজি গাঁজাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর পৌরসভার রাণীগঞ্জ যৌনপল্লীতে ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৬ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।

​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— জামালপুর সদরের পাথালিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের পিতা- দুদু মিয়ার ছেলে ইসরাফিল(২০), মেলান্দহ উপজেলার মালঞ্চ গ্রামের লাল মিয়ার মেয়ে সুফিয়া বেগম (৪০)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাণীগঞ্জ যৌনপল্লীতে মাদকের কেনাবেচার খবর পেয়ে জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজমুস সাকিবের দিকনির্দেশনায় গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সদর থানার এসআই আছাদুজ্জামান রিকশায় চড়ে ক্রেতা সেজে ছদ্মবেশে যৌনপল্লীতে প্রবেশ করেন।

​অভিজ্ঞ এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, যৌনপল্লীতে ঢোকার পর এক ব্যক্তি তাঁর কাছে জানতে চান ‘মাল লাগবে নাকি নারী লাগবে?’ তিনি ‘মাল’ (গাঁজা) লাগবে বলে জানান এবং টাকা দেওয়ার সাথে সাথেই তাঁকে গাঁজার পুরিয়া দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি আগে থেকে ওত পেতে থাকা অন্য পুলিশ সদস্যদের সংকেত দিয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক করান। পরবর্তীতে যৌনপল্লীর ৬ নম্বর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি নীল রঙের পলিথিনে থাকা ২ কেজি এবং প্লাস্টিক ও কাগজের মোড়কে থাকা আরও ৪ কেজি ৫০০ গ্রামসহ মোট সাড়ে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় গাঁজা পরিমাপের একটি ডিজিটাল স্কেল এবং মাদক বিক্রির নগদ ২ হাজার ৫০ টাকা জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি মো. নাজমুস সাকিব।

​তিনি আরও জানান, পুলিশ সুপার মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিনের দিকনির্দেশনায় মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের এই কঠোর অভিযান ও তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

​জেলা পুলিশের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, জেলার প্রতিটি থানা, তদন্তকেন্দ্র ও পুলিশ ফাঁড়িকে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩৮:১৩   ৩৩ বার পঠিত