![]()
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে বদলি-পদায়নে অনিয়ম ও তদবির বন্ধে স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ লটারি প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার প্রবণতা কাম্য নয়।
আজ রাজধানীর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত ‘জাতীয় সাংবাদিক সমাবেশ-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাকারিয়া তাহের বলেন, সরকার বা মন্ত্রণালয় কোনো ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করলেও অনেক ক্ষেত্রে তার ইতিবাচক দিকগুলো সংবাদে যথাযথভাবে উঠে আসে না। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদলি ও পদায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ও অনিয়মের কথা ছিল। বিষয়টি নিয়ে আমরা অনেক চিন্তাভাবনা করেছি। কীভাবে তদবির ও অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করে একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যায়, তা বিবেচনা করেই লটারির মাধ্যমে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, আমরা চেয়েছি, কোনো ধরনের ব্যক্তিগত তদবির বা প্রভাব যেন বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে কাজ না করে। এজন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত পরিবেশে লটারি হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৫৮৫ প্রকৌশলীর বদলি ও পদায়নে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। সব ক্ষেত্রে সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। কিছু মানবিক বিবেচনার বিষয়ও থাকে। সে বিষয়গুলোও আমরা বিবেচনায় নিয়েছি।
মন্ত্রী বলেন, কিন্তু পদায়ন ও বদলি বাণিজ্য বন্ধ করতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করার প্রবণতা কোনো কোনো গণমাধ্যমকে করতে দেখা গেছে, সেটা সবার জন্য কষ্টদায়ক।
জাকারিয়া তাহের বলেন, গণতন্ত্র, সুশাসন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যমের বিকল্প নেই। সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার।
তিনি আরও বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করেন। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্দশাগ্রস্ত সাংবাদিকদের সহায়তা করা হচ্ছে।
গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে আপনারা সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভালো কাজগুলোকে উৎসাহিত করতেও ভূমিকা রাখতে পারেন।
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার মহাসচিব মো. আলমগীর গণির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্থার নেতা মো. জামাল হোসেন।
এসময় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমানসহ অন্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৫৭:০৮ ১৩ বার পঠিত