
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার দেশের প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়ন পরিষদকে নিরাপদ রাখতে কাজ করছে। গ্রামীণ জনপদ নিরাপদ থাকলে বাংলাদেশও নিরাপদ থাকবে। তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কোথায় অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে কিংবা কোথায় অপরাধের আশঙ্কা রয়েছে, সে বিষয়ে গ্রাম পুলিশ আগাম তথ্য সংগ্রহ করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে পারে।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে আজ শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত হন তিনি।
সমাবেশস্থলে প্রবেশের পর সারাদেশ থেকে আসা গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে করতে মূল মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মহাসমাবেশে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এখন থেকে একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য মাসিক ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধান ১১ হাজার টাকা বেতন পাবেন। পাশাপাশি প্রত্যেক সদস্যকে প্রতি মাসে ১৫০ টাকা মোবাইল বিল দেবে সরকার। নতুন এ সিদ্ধান্ত আজ শনিবার থেকেই কার্যকর হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, গ্রাম পুলিশ সদস্যদের অবসরকালীন আনুতোষিক ভাতা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে এ ভাতা ৮০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মোবাইল ফোন খরচ বাবদ প্রতি মাসে ১৫০ টাকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি থানায় যাতায়াত ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে ৩০০ টাকা যাতায়াত ভাতা পান। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে এ ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছে।
সরকারপ্রধান বলেন, শুধু পদবি পরিবর্তন নয়, গ্রাম পুলিশের আর্থিক ও পেশাগত মর্যাদা বাড়াতেও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগে মহল্লাদার ও দফাদার হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা এখন থেকে যথাক্রমে গ্রাম পুলিশ সদস্য ও গ্রাম পুলিশ প্রধান হিসেবে পরিচিত হবেন।
প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে নতুন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নারী গ্রাম পুলিশের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস নির্ধারণ করা হবে।
গ্রাম পুলিশের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সড়ক গ্রাম পুলিশের নামে নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ওই সড়কের দুই পাশে গাছ লাগানো হবে। গাছ বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
এ ছাড়া গ্রাম পুলিশ সদস্যদের পাঁচ বছর পরপর সাইকেল দেওয়ার পরিবর্তে তিন থেকে সাড়ে তিন বছর পরপর নতুন সাইকেল দেওয়ার ব্যবস্থা করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেন তিনি।
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি নিরাপদ ইউনিয়ন গড়ে তুলতে কার্যকর স্থানীয় প্রশাসন, দায়িত্বশীল গ্রাম পুলিশ এবং সচেতন জনগণের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অগ্নিকাণ্ডসহ জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশনাও দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা বাড়াতে হবে। সামাজিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে অপরাধের মাত্রা অনেকাংশে কমে আসবে।
পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা ও বৃক্ষরোপণে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, নিজেদের ঘরবাড়ি, হাটবাজার, রাস্তাঘাট ও খালের দুই পাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত হতে হবে।
সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমান সরকার একটি নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদেরও রাষ্ট্রের প্রতি নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
মহাসমাবেশে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা প্রায় ৪১ হাজার গ্রাম পুলিশ সদস্য অংশ নেন। তাঁদের ব্যাপক উপস্থিতিতে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশাল সমাবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশের আট বিভাগ থেকে নির্বাচিত সেরা আটজন গ্রাম পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা স্মারক ও অর্থ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
মহাসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ।
এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:২০:১০ ১ বার পঠিত #গ্রাম পুলিশ #গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা #জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড #তারেক রহমান