রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, আটক অন্তত ৩৬০

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, আটক অন্তত ৩৬০
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬



ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, আটক অন্তত ৩৬০

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও তরুণদের বিভিন্ন দাবিতে আবারও রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। শনিবার (৭ নভেম্বর) দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমারি সদস্য মোতায়েন করা হয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সন্ধ্যা ৭টার হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভ ঘিরে অন্তত ৩৬০ জনকে আটক করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দেশজুড়ে ১৪১টি কর্মসূচিতে ১ লাখ ৪৬ হাজার মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল ৪৬ হাজার। অন্যদিকে, শিক্ষার্থী ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত আন্দোলনকারীদের জোটের দাবি, সারা দেশে ২ লাখ ৫০ হাজার এবং প্যারিসে ৭৫ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।

প্যারিসে প্লাস দ্য লা রিপাবলিক থেকে প্লাস দ্য লা নাসিওঁ পর্যন্ত অনুমোদিত মিছিলটি শুরুতে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। তবে মিছিলের শেষ পর্যায়ে নাসিওঁ চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ও আতশবাজি নিক্ষেপের পর নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আবর্জনার পাত্রে আগুন দেওয়ার ঘটনায় একজনকে আটক করার সময় প্রায় ২০০ জনের একটি সহিংস গোষ্ঠী পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

এদিকে, প্যারিসের প্লাস দ্য লা কনকর্দ এলাকায় ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের একটি অংশ পৃথক সমাবেশের ডাক দিয়েছিল। তবে কর্তৃপক্ষ ওই কর্মসূচি নিষিদ্ধ করে। সেখানে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের পুলিশ ঘিরে ফেলে। এ সময় আন্দোলনের সমন্বয়ক বেঞ্জামিন বল এবং মুখপাত্র আজেলমা সিগোকে আটক করা হয় বলে এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লিয়োঁতেও অনুমতিহীন সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনা দেখা দেয়। শহরের কেন্দ্রস্থলে সড়ক অবরোধের পর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে কয়েক শ মানুষকে ছত্রভঙ্গ করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে তুলুজ, গ্রেনোবল, মার্সেই, নঁত, বোর্দো, স্ত্রাসবুর্গ ও দিজোঁসহ কয়েকটি বড় শহরে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভের দিন রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের সড়ক ও রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে প্রতিরোধমূলক তল্লাশির আওতায় আনা হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমারি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তাদের সহায়তায় ২৫টি সাঁজোয়া যান এবং ১৫টি জলকামানবাহী যান প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

গত কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের তুলনায় শনিবার অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর ৫ লাখ ৫০ হাজার, ২৪ অক্টোবর ৪ লাখ ১০ হাজার এবং ৩১ অক্টোবর ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। এর আগে ৫ নভেম্বর শ্রমিক সংগঠনগুলোর ডাকা জাতীয় কর্মসূচিতে সরকারি হিসাবে ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ অংশ নেন। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি ছিল ১৬ লাখ।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত অবস্থা, শিক্ষকসংকট ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে বর্তমান বিক্ষোভের সূচনা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশার মানুষের অংশগ্রহণে তা দেশব্যাপী আন্দোলনে রূপ নেয়। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, বেতন বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ বাড়ানো আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি।

শনিবারের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আগের কয়েক সপ্তাহের তুলনায় কম হলেও বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ ও আটকের ঘটনা ফ্রান্সের চলমান সামাজিক অসন্তোষের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:৩৫:৪২   ৫ বার পঠিত   #  #  #  #