
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের খানবাড়ি এলাকায় সম্প্রতি ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় মোট ১৬টি গরু উধাও হয়ে গেছে। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে এক কৃষকের গোয়ালঘর থেকে একসঙ্গে চারটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহাদান ইউনিয়নের খানবাড়ি গ্রামের সোলাইমান হোসেন খানের বাড়িতে সর্বশেষ এ চুরির ঘটনা ঘটে। তাঁর স্ত্রী মোছা. নিগার সুলতানা জানান, সংসারের কাজের পাশাপাশি তাঁরা গবাদিপশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রতিদিনের মতো গত শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে টিনশেডের গোয়ালঘরে চারটি গরু রেখে দরজা বন্ধ করেন তিনি। রাত ১টার দিকে গোয়ালঘর ঠিকঠাক থাকলেও রোববার (৮ নভেম্বর) ভোরে ফজরের নামাজের পর গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন দরজার কড়া ভাঙা এবং ভেতরের গরুগুলো নেই।
আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন নিগার সুলতানা। চুরি হওয়া গরুগুলোর মধ্যে দুটি গাভী, একটি ষাঁড় ও একটি বকনা বাছুর রয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুধু সোলাইমান হোসেন খানই নন, এর আগেও একই এলাকায় বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবুজ কাজীর ১টি, মোজাম্মেল হক খানের ১টি,সামাদের ৪টি,চায়নার ১টি,মজিদ খানের ৫টি গরু চুরি হয়। সর্বশেষ সোলাইমান খানের ৪টিসহ এই এলাকায় মোট ১৬টি গরু চুরির ঘটনা ঘটল।
একের পর এক এমন চুরির ঘটনায় রাতের বেলা গোয়ালঘরের নিরাপত্তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও গৃহস্থরা। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, অবিলম্বে চোরচক্রকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা না হলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বেন তাঁরা। দ্রুত চুরি হওয়া গরুগুলো উদ্ধার এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৩:৫৪ ২৩ বার পঠিত