দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পবিত্র কাবায় আজান দিচ্ছেন যিনি

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পবিত্র কাবায় আজান দিচ্ছেন যিনি
রবিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৩



---

পবিত্র কাবা শরীফ মানে মসজিদুল হারামে মুসল্লিদের দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে সুমধুর সুরে আজান শুনিয়ে মুগ্ধ রাখছেন মুয়াজ্জিন শায়খ আলী আহমদ মোল্লা।

গত অর্ধ-শতাব্দিকাল ধরে হাজিদের কাছে তার আজানের সুর খুবই পরিচিত। তিনিই পবিত্র মসজিদুল হারামের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও প্রবীণ মুয়াজ্জিনদের একজন। দীর্ঘকাল আজান দেয়ায় অনেকে তাকে ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন বিলাল (রা.)-এর নামের সঙ্গে মিলিয়ে ‘বিলাল আল-হারাম’ বা হারাম শরিফের বিলাল উপাধি দেন।

বর্তমানে তিনি ‘শায়খুল মুয়াজ্জিনিন’ প্রধান মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার চাচাতো ভাই শায়খ আবদুল মালিক মোল্লার মৃত্যুর পর তিনি মসজিদুল হারামের প্রধান মুয়াজ্জিন নিযুক্ত হন।

শায়খ আলী আহমদ মোল্লা ১৯৪৫ সালে মক্কা নগরীর প্রসিদ্ধ সুক আল-লাইল এলাকায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পবিত্র মসজিদুল হারামে আজান দেয়াই তার পূর্বপুরুষদের অন্যতম ঐতিহ্য। তার দাদা, বাবা, চাচা, ভাইসহ বংশের অনেকেই এ দায়িত্ব পালন করেন।

শায়খ আলী মোল্লা শৈশবে মসজিদুল হারামে শায়খ আশুরের কাছে প্রাথমিক পড়াশোনা শুরু করেন। এরপর মাসআয় অবস্থিত রহমানিয়া মাদরাসায় পড়েন। ১৯৭১ সালে রিয়াদের ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল অ্যাডুকেশন থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। ১৯৭৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ পান। মসজিদে আজান দেয়ার পাশাপাশি নিজস্ব ব্যবসাও দেখাশোনা করেন তিনি।

প্রথম আজান : ১৩৯৫ হিজরিতে মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি বাব আল জিয়াদায় ফজরের প্রথম আজান দেন। তখন মাইক্রফোনের ব্যবহার ছিল না। তাই আশপাশের কিছু লোক তা শুনতে পেত। এরপর তিনি বাব আল মাহাকামার মুয়াজ্জিন হিসেবে নিযুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি পুরো মসজিদুল হারামে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শায়খ আলী মোল্লা মসজিদুল হারামে লাউডস্পিকার ব্যবহার শুরুর আগে থেকে আজান দেয়া শুরু করেন। তখন মসজিদুল হারামের সাতটি মিনার থেকে মুয়াজ্জিনদের আজান দেয়া শুরু হতো। জমজম কূপের পাশের ‘আল মাকাম আল শাফেয়ি’ থেকে প্রধান মুয়াজ্জিন আজান শুরু করতেন। অন্যরা তা পুনরাবৃত্তি করতেন। উসমানি শাসনামলে আজানের এ ঐতিহ্য শুরু হয়। বর্তমান তুরস্কে এখনও এ নিয়ম প্রচলিত আছে।

সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত : শায়খ আলী মোল্লা বলেছেন, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সুসংবাদ ছিল যেদিন আমার বাবা জানালেন যে আমি একদিন মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন হব। বিলাল আল-হারাম উপাধি পেয়ে আমি খুবই অভিভূত। সৌদির সহায়তায় নির্মিত মসজিদ উদ্বোধনে ব্রিটেনে গেলে সেখানকার মুসলিমরা আমাকে এ উপাধি দেন। সংবাদপত্রে তা প্রচারিত হলে এ উপাধি সবার মধ্যে পরিচিতি লাভ করে।

১৯৭৯ সালে মসজিদুল হারাম অবরোধকালে ২৩ দিন ধরে আজান বন্ধ ছিল। অবরোধ তুলে নেয়ার পর তিনিই প্রথম মাগরিবের আজান দেন। ওই সময় বাদশাহ খালেদ মসজিদে উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: আল-অ্যারাবিয়াহ ও উইকিপিডিয়া।

বাংলাদেশ সময়: ১১:৫৯:৩৯   ৪২০ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

ছবি গ্যালারী’র আরও খবর


ডেঙ্গু প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ
ইতিহাসের এই দিনে
আল কোরআন ও আল হাদিস
মহাষষ্ঠীতে শুরু দুর্গোৎসব, উৎসবমুখর নারায়ণগঞ্জ
ফতুল্লায় ২০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১
আগামীকাল নারায়ণগঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. মঈন খান
দুর্গাপূজায় শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন আইনমন্ত্রী
সব ধর্মের বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
বন্দরে মাকসুদা হত্যা: আদালতে প্রধান আসামি সাদ্দামের স্বীকারোক্তী

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ