সোনারগাঁয়ে মাছের ঘেরের মাচায় ঝুলছে রঙিন তরমুজ

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » সোনারগাঁয়ে মাছের ঘেরের মাচায় ঝুলছে রঙিন তরমুজ
রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫



সোনারগাঁয়ে মাছের ঘেরের মাচায় ঝুলছে রঙিন তরমুজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার গৌরবরদী গ্রামের রমজান আলী দেশের আধুনিক কৃষির সফল উদাহরণ। ইউনুস আলীর ছেলে রমজান আলীর বাবা কৃষক হওয়ার কারণে ছোটবেলা থেকেই কৃষিতে আগ্রহী। বিএসএস শেষ করে চাকরির পেছনে সময় নষ্ট না করে তিনি ২০০৯ সালে কৃষিতে হাতেখড়ি নেন।

২০১৪ সালে ঢাকা বিভাগের প্রথম মালচিং পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন তিনি। টমেটো ও চিচিঙ্গা চাষের মাধ্যমে তার এই পদ্ধতির যাত্রা শুরু। এরপর দেশি ও বিদেশি সবজি ও ফল চাষেও আগ্রহী হন। বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তি ও উচ্চ ফলনশীল বীজ ব্যবহার করে তিনি আবহাওয়া ও বাজার দর অনুযায়ী আধুনিক চাষে ফসল উৎপাদন করছেন।

এ বছর গ্রীষ্মকালীন ফল তরমুজ উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন রমজান আলী। ৫ দশমিক ৫ বিঘা জমিতে মাচা ব্যবহার করে কালাচাঁন ও তৃপ্তি জাতের তরমুজ চাষ করছেন। হলুদ ও কালো রঙের তরমুজ থোকায় ঝুলে আছে মাচায়। ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে এসব তরমুজ বাজারে আসবে। পাশাপাশি পুকুরপাড়ে করলা ও লাউ চাষ করেছেন।

রমজান আলী স্থানীয় কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এসএসসি পরীক্ষার আগে থেকেই কৃষিতে আগ্রহী ছিলাম। চ্যালেঞ্জ নেওয়ায় ভালো লাগে। গতানুগতিক পদ্ধতি ছাড়িয়ে আধুনিক চাষ শুরু করেছি। উন্নত বীজ রোপণ করে ফসল উৎপাদন করি। ইউটিউব ও কৃষি অফিসের পরামর্শে সাফল্য পেয়েছি।’

তিনি শীতকালীন টমেটো, ফুলকপি, স্কোয়াশ, শসা, বেগুন, লাউসহ বিভিন্ন সবজি উৎপাদন করেন। বর্ষাকালে তরমুজ, করলা ও লাউ উৎপাদন করেন। তার উৎপাদিত ফসল যাত্রাবাড়ী ও গাউছিয়া কাঁচা বাজার ও ফলের আড়তে বিক্রি হয়।

রমজান আলী বলেন, ‘চাকরি বা প্রবাসে যাওয়ার চিন্তা না করে কৃষিতে নিয়োজিত হয়েছি। এটি হালাল উপার্জনের একমাত্র স্বাধীন পেশা। আধুনিক কৃষি থেকে মাসে গড়ে ৫০ হাজার টাকা আয় করি। অল্প বিনিয়োগে দ্বিগুণ লাভ সম্ভব।’

তিনি ঢাকা বিভাগের মালচিং চাষে প্রথম চাষি বলে দাবি করেন। তার উদাহরণ দেখে স্থানীয় ও অন্যান্য এলাকার কৃষকরা এই পদ্ধতিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

সোনারগাঁও উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, তরমুজ একটি লাভজনক ফসল। অল্প সময়ে কম খরচে বেশি লাভ সম্ভব। প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচে দুই মাসে লাখ টাকার ওপরে আয় করা যায়। মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়মিত রমজান আলীকে পরামর্শ ও সহযোগিতা দেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাদিয়া সুলতানা বলেন, ‘রমজান আলী তরমুজ চাষে চাষিদের জন্য অনুকরণীয়। তার দেখানো পথে চাষ করলে লাভবান হবেন। আমরা সার, বীজ ও কীটনাশকসহ পরামর্শ দিচ্ছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক বলেন, ‘রমজান আলীর উদ্যোগ আমাদের কৃষির নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। বর্ষাকালে মাচায় তরমুজ চাষ উদ্ভাবনী। অনাবাদি বা জলাবদ্ধ জমি ব্যবহার করা যায়। স্থানীয় বাজারে চাহিদা বেশি, ফলে দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৭:০০:০৩   ৫৫৯ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

ছবি গ্যালারী’র আরও খবর


ইতিহাসের এই দিনে
আল কোরআন ও আল হাদিস
নরওয়ের সঙ্গে স্থানীয় সরকারে কারিগরি সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা এলজিআরডি মন্ত্রীর
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৮ লাখ মানুষের নিরাপত্তায় ২২০০ সদস্য, জনবল সংকটকে চ্যালেঞ্জ বলছে এপিবিএন
সোনারগাঁওয়ে চাঞ্চল্যকর আইয়ুব হোসেন হত্যা মামলার রহস্য ২৪ ঘণ্টায় উদঘাটন, গ্রেফতার ২
সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দরে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনক, প্রতিরোধে মাঠে নেমেছেন নাসিক প্রশাসক
তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান প্রেস সচিবের
প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়সীমা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কাদের সিদ্দিকীর সৌজন্য সাক্ষাৎ
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত: স্থায়ী কমিটি

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ