![]()
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত তারাকান্দি যমুনা সার কারখানায় (জেএফসিএল) দৈনিক ভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, চুক্তি লঙ্ঘন এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নিয়মবহির্ভূতভাবে শ্রমিক নিয়োগের অভিযোগ তুলেছে অনুমোদিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিঃ’। এই জটিলতার জেরে ১৯০ জন শ্রমিকের বেতন বন্ধ থাকায় শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী শ্রমিকেরা।
চুক্তি অনুযায়ী জনবল সরবরাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ‘আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিঃ’ জানায়, গত ২১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে তারা কারখানা চলাকালীন ২৩৯ জন এবং বন্ধকালীন ১৬৫ জন শ্রমিক সরবরাহের কার্যাদেশ পায়। তবে তাদের অভিযোগ, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও ডিজিএম (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন শুরু থেকেই অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানান, ডিজিএম নিজে আর্থিক সুবিধা নিয়ে ‘মেসার্স এ.এন এন্টারপ্রাইজ’ এর যোগসাজশে ১৯০ জন শ্রমিককে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দিয়েছেন এবং চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে তোয়াক্কা না করে সরাসরি শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া ‘শ্রম আইন ২০০৬’ এবং ‘দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা, ২০২৫’ এর ৫ নম্বর ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
আল-মমিন আউটসোর্সিং বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও মাত্র ২৪ জন শ্রমিক নিয়োগ দিতে পেরেছে, বাকিদের নিয়োগে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। তবুও কম্পানির দেওয়া আরও ২৫ শ্রমিকের সুপারিশ মেনে নিয়ে মোট ৪৯ জন শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করেছেন বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অবৈধ হস্তক্ষেপের কারণে ১৯০ জন শ্রমিকের গত নভেম্বর মাসের মজুরি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আল-মমিন আউটসোর্সিং জানায়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নিয়োগের বৈধতা না থাকায় তারা এই ১৯০ জনের মজুরি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। তবে সমস্যা সমাধান হওয়ামাত্রই পাওনা পরিশোধ করা হবে।
এদিকে, বকেয়া বেতনের দাবিতে শনিবার সকালে শ্রমিকরা কারখানার প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেন। তাদের অভিযোগ, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বেতন দিচ্ছে না এবং অযথা ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযুক্ত উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ”আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিস লিঃ যেসব দাবি করছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি।”
এদিকে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানটির দাবি, জেএফসিএল কর্তৃপক্ষ শ্রমিক সরবরাহের ক্ষেত্রে শ্রম আইন ও বিধিমালার কোনো তোয়াক্কা করছে না। অনেক ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্সের বিনিময়ে কাজ দেওয়া হচ্ছে। এই সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির তদন্তে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৫৫:৩৬ ১৮৯ বার পঠিত