
জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও দশআনী নদী থেকে প্রকাশ্যেই চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। দিনের আলোতে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক ব্যবহার করে নদীর বুক চিরে বালু লুট করা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বারবার অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও কার্যকর কোনো অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—প্রশাসন কি তবে দায়বদ্ধতা পালনে ব্যর্থ..? নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো যোগসাজশ..?
অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের গ্রামগুলোতে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এর ফলে ইতিমধ্যে হুমকির মুখে পড়েছে, হাজারো মানুষের বসতবাড়ী, বিশাল এলাকাজুড়ে ফসলি জমির মাঠ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়।
এছাড়াও, নদী থেকে বালু পরিবহনের সময় রাস্তায় কাদা ও মাটি পড়ে থাকছে। বৃষ্টির পানিতে এই মাটি ভিজে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর আর্তনাদ—”আজ নদী কাটছে, কাল ঘরবাড়ি ভাঙবে; তবুও প্রশাসনের টনক নড়ছে না।”
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, যত্রতত্র বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ নষ্ট হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ইসলামপুর এলাকায় অদূর ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ও মানবিক সংকট দেখা দেওয়া অনিবার্য।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজোয়ান ইফতেকার বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছি। কোথাও অনিয়ম বা অবৈধ কার্যক্রমের তথ্য থাকলে ছবি তুলে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দেন।” আমরা ব্যবস্থা নিবো।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্যের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসাইনের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে নিয়মিত ও জোরালো টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। অবৈধ বালু ব্যবসার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি উঠেছে। অন্যথায় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:০৪:০৬ ৪৫ বার পঠিত