![]()
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অধিকার সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তারা কারাগারে বন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি এবং বিদেশি সাংবাদিকদের দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
কলম্বিয়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
কলম্বিয়ার সীমান্ত শহর কুকুটা থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা শনিবার দেশটির নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর প্রায় ২০০ বিদেশি সাংবাদিক ভেনেজুয়েলায় প্রবেশের আবেদন করেছেন।
সরকার সাংবাদিকদের জন্য মিডিয়া ভিসা আবশ্যক করেছে, তবে অনেক আবেদন এখনো উত্তরহীন রয়েছে বলে আরএসএফ জানিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার সংসদীয় প্রধান এবং অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ভাই হোর্হে রদ্রিগেজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেন, রাজনৈতিক কারণে আটক কয়েকজন বিদেশিসহ বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
আরএসএফ-এর লাতিন আমেরিকা বিষয়ক গবেষণা কর্মকর্তা ফাবিওলা লিওন বলেন, আমরা সব সাংবাদিকের ক্ষেত্রে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি এবং গণমাধ্যমকে কোনো ‘সীমাবদ্ধতা’ ছাড়াই কাজ করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
আরএসএফের হিসাব অনুযায়ী, পেশাগত কারণে অন্তত ছয়জন সাংবাদিক এখনো কারাগারে রয়েছেন।
৫ জানুয়ারি কারাকাসে ডেলসি রদ্রিগেজের শপথ অনুষ্ঠানের সময় ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনী সাময়িকভাবে ১৪ জন সাংবাদিককে আটক করে, যাদের বেশিরভাগই বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ছিলেন।
এরপর আরও চারজন সাংবাদিককে সীমান্তে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে দুজন স্পেনের, একজন মেক্সিকোর এবং একজন কলম্বিয়ার নাগরিক। তবে কয়েক ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
কলম্বিয়ার সাংবাদিক জেফ সিয়েরা এএফপি-কে বলেন, তাকে ১৪ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল। এ সময় তার ওপর ‘মানসিক’ চাপ সৃষ্টি এবং মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ তার ফোন তল্লাশি করে সংগৃহীত সংবাদ বা তথ্যগুলো মুছে দিয়েছে।
আরএসএফ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ভেনেজুয়েলার চলমান ঘটনাবলি এবং যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের পরিণতি বোঝার জন্য এ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কর্তৃপক্ষকে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ওপর কড়াকড়ি বন্ধ করতে হবে।’
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২২:৫৫ ১৭ বার পঠিত