![]()
আজ ঢাকায় বাংলাদেশের প্রাণিকুলের রেড লিস্ট হালনাগাদকরণ প্রকল্পের আওতায় বন বিভাগের সাথে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইইউসিএন, বাংলাদেশ এর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক মোঃ ছানাউল্যা পাটোয়ারী ও আইইউসিএন, বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বিপাশা শারমিন হোসাইন চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এ সময় সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরী।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জাতীয় রেড লিস্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক, নীতিগত ও ব্যবস্থাপনাগত দলিল, যা দেশের বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতিসমূহের বর্তমান সংরক্ষণ অবস্থা নিরূপণ, মূল্যায়ন এবং অগ্রাধিকার নির্ধারণে মৌলিকভিত্তি হিসেবে কাজ করে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইইউসিএন (IUCN) রেড লিস্ট ক্যাটেগরি ও মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রণীত এই তালিকার মাধ্যমে কোন প্রজাতি বিলুপ্ত, সংকটাপন্ন, বিপন্ন, ঝুঁকিপূর্ণ অথবা তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে রয়েছে—তা বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। এর ফলে সরকার, নীতিনির্ধারক, বন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এবং গবেষকদের জন্য কার্যকর সংরক্ষণ কৌশল প্রণয়ন, আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, সংরক্ষিত এলাকা ব্যবস্থাপনা এবং প্রজাতিভিত্তিক অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়নে একটি শক্তিশালী প্রমাণভিত্তিক কাঠামো তৈরি হয়।
জাতীয় রেড লিস্ট জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করে, বিশেষত ঝউএ ১৪ SDG 14 (Life Below Water) ও SDG 15 (Life on Land) বাস্তবায়নে এটি একটি মূল সহায়ক উপকরণ হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, উন্নয়ন প্রকল্প পরিকল্পনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
এই প্রেক্ষাপটে আজকের দিনটি বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ইতিহাসে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। আইইউসিএন বাংলাদেশ ও বন অধিদপ্তর; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে জাতীয় রেড লিস্ট প্রণয়ন ও হালনাগাদ কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার। এই চুক্তির মাধ্যমে জাতীয় রেড লিস্ট কার্যক্রম আরো প্রাতিষ্ঠানিক, নিয়মিত ও টেকসই রূপ পাবে; দেশীয় বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রজাতিভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন আরো শক্তিশালী হবে।
এ উদ্যোগ জীববৈচিত্র্য সনদ (CBD), কুনমিং—মন্ট্রিয়াল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্ক, CITES এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক পরিবেশগত চুক্তির প্রতি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:১৯:৫৭ ১০ বার পঠিত