
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে রাষ্ট্রকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হবে ।
তিনি আজ বগুড়া সদর উপজেলার ফাঁপোড় পশ্চিমপাড়ায় গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, অন্তবর্তী সরকারে আমরা এসেছি অস্থায়ীভাবে, আমরা নির্বাচন পরপর চলে যাবো। আমরা কোন পার্টি না। আগামী নির্বাচনে বিভিন্ন দল আসবে ভোটের জন্য আপনারা যাকে খুশি ভোট দিবেন, এখানে আমাদের কোন কথা নেই, আমরা নিরপেক্ষ এ ক্ষেত্রে। শুধু ‘হ্যাঁ’ ‘না’ ভোটের ক্ষেত্রে আমরা সচেতন করতে এসেছি। হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে এতে রাষ্ট্রকাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আসবে। আর কোন ফ্যাসিস্ট সরকার যেন কখনও মানুষের উপর নির্যাতন করতে না পারে। বিনাবিচারে হত্যা করতে না পারে। এই বিষয়গুলো হ্যাঁ ভোট দ্বারা প্রতিষ্ঠা করে যেতে চাই।
মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতার তুলনা টেনে উপদেষ্টা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আমরা বিদেশি শক্তির সঙ্গে অস্ত্র হাতে লড়েছি। কিন্তু ২০২৪ সালের লড়াই ছিল নিজের বিরুদ্ধে নিজের লড়াই। একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে তরুণরা খালি হাতে লড়েছে। বাবার বন্দুকের সামনে ছেলে বুক পেতে দিয়েছে। পৃথিবীতে খুব কম জাতি এমন সংগ্রাম করে এই পর্যায়ে আসে। এই অর্জনকে নিরঙ্কুশ করতেই ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে কী কী পরিবর্তন আসবে, তা ব্যাখ্যা করে ফারুক-ই-আজম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে দলীয় প্রধান হতে পারবেন না। বিচার বিভাগ হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন। বিভাগীয় পর্যায়ে হাইকোর্টের বেঞ্চ এবং উপজেলা পর্যায়ে আদালত স্থাপন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধান বিচারপতি, পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে এককভাবে সরকার নিয়োগ দিতে পারবে না। বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠান গঠন করতে হবে। রাষ্ট্রপতির ক্ষমার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসবে।
উপদেষ্টা বলেন, গণভোটে প্রাপ্ত রায় বাস্তবায়নের সুযোগ এই সরকারের নেই। তবে জনগণের রায়ে সংবিধান পরিবর্তিত হলে ভবিষ্যতে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। তাই রাষ্ট্রের চাবিকাঠি হাতে নেওয়ার এই সুযোগ যেন হেলায় নষ্ট না হয়, সে আহ্বান জানান তিনি।
উঠান বৈঠকে উপদেষ্টা উপস্থিত জনগণের কাছ থেকে গণভোট সংক্রান্ত প্রশ্নও গ্রহণ করেন এবং সরাসরি উত্তর দেন।
জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেনসহ জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৫৩:২৩ ৫ বার পঠিত