বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন রাজনীতির অনন্য দৃষ্টান্ত : আমীর খসরু

প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম » বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন রাজনীতির অনন্য দৃষ্টান্ত : আমীর খসরু
শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬



বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন রাজনীতির অনন্য দৃষ্টান্ত : আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতায় যখন অনেকেই আপস করেছেন কিংবা চাপ নিতে না পেরে সরে দাঁড়িয়েছেন, তখন বেগম খালেদা জিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও আপস করেননি। এই জায়গাতেই তিনি অন্যদের থেকে আলাদা।

আজ শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউরী ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে নাগরিক শোকসভায় বেগম খালেদা জিয়ার কর্মময় রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতি চারণ করে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, ড. সুকোমল বড়ুয়া, এস এম ফজলুল হক, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ড. রাজীব রঞ্জন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে রাজনীতিতে এসে জীবনের অধিকাংশ সময় ক্ষমতার বাইরে থেকেও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন। মাত্র ১০-১১ বছর ক্ষমতায় থাকলেও প্রায় ৩০বছর তিনি আপসহীনভাবে গণতন্ত্রের পক্ষে রাজপথে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।

বেগম খালেদা জিয়াকে বিশ্ব নেতৃত্বের সঙ্গে তুলনা করে আমীর খসরু বলেন, মার্টিন লুথার কিং ও নেলসন ম্যান্ডেলার মতো নেতারা যেভাবে জীবনের শেষ পর্যন্ত আপসহীন ছিলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগও সেই উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমরা তাঁর জীবদ্দশায় সেই ত্যাগের গভীরতা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে না পারলেও তাঁর মৃত্যুর পর বুঝতে পেরেছি- তিনি কতটা গভীরভাবে বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে জায়গা করে নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সারাজীবনের ত্যাগের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যে মশাল জ্বালিয়ে গেছেন, সেই মশাল এখন তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন। এই মশাল অত্যন্ত মূল্যবান, যা আমাদের সবাইকে বহন করতে হবে।

আগামীর রাজনীতির পথ সহজ হবে না উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, গণতন্ত্রের লড়াই শেষ হয়নি, আমাদের শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে হবে। সামনে ১২ তারিখ নির্বাচন রয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র চর্চার লড়াই আরও কঠিন হতে পারে। আমরা ভাবতে পারি- নির্বাচনের পর জীবন সহজ হয়ে যাবে, কিন্তু জীবন মোটেও সহজ হবে না। গণতন্ত্রের লড়াই এখানেই শেষ নয়, নির্বাচন-পরবর্তী সময় আরও কঠিন হতে পারে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে গণতন্ত্র রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে হবে।

বেগম খালেদা জিয়া দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন মন্তব্য করে নাগরিক শোকসভায় অতিথির বক্তব্যে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ড. রাজীব রঞ্জন বলেন, তিনি ছিলেন দৃঢ় সংকল্প ও অটল বিশ্বাসের এক বিরল নেতৃত্বের প্রতীক। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ইতিহাসে এক অনন্য মর্যাদা অর্জন করেছেন।

রাজীব রঞ্জন বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, প্রগতিশীল আদর্শ এবং জাতির সেবায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। যদিও তাঁর প্রয়াণে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা অপূরণীয়, তবে তাঁর দর্শন চিরকাল বেঁচে থাকবে। তিনি যে মূল্যবোধ ও কৌশলগত ভিত্তি গড়ে দিয়ে গেছেন, তা ভবিষ্যতেও ভারত ও বাংলাদেশের গভীর ও ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করতে যৌথ প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।”

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই চলতে হবে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ যে অপরিহার্য তিনি তা কর্ম ও উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন।

ডা. শাহনাজ মাবুদ শিলভীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন তুরুস্কের কনসাল জেনারেল সালাউদ্দীন কাশেম খান, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউনুস, চবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. নসরুল কদির, ইস্ট ডেলটা ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. নাজিম উদ্দীন, বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহনওয়াজ, চট্টগ্রাম ১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাইদ আল নোমান এবং চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ ড. জিনবোধি ভিক্ষু।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৯:০২   ৫ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

চট্টগ্রাম’র আরও খবর


বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন রাজনীতির অনন্য দৃষ্টান্ত : আমীর খসরু
ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই : গোলাম পরওয়ার
একটি দল সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায় : শিবির সভাপতি
৫৪ বছর ধরে বেইনসাফি ও দুর্নীতির রাজনীতি চলছে : শফিকুর রহমান
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে: সালাহউদ্দিন
বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতিষ্ঠিত দল : সালাহউদ্দিন আহমদ
বান্দরবানে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ট্রাক সংগীত উদ্বোধন করলেন মহাপরিচালক
দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে : গোলাম পরওয়ার
নির্বাচনে ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে : জামায়াত আমির
আমাকে দায়িত্ব দিলে চাঁদাবাজদের ঘুম হারাম করে দেব : হাসনাত আব্দুল্লাহ

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ