
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাতে বুধবার (৪ জানুয়ারি) আল জাজিরা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু রয়েছে, যার মধ্যে ১১ বছর বয়সী একটি মেয়েশিশুও রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা সিটির তুফাহ ও জেইতুন এলাকায় ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের কিজান আবু রাশওয়ান এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় নেওয়া তাঁবুতে চালানো হামলায় আরো চারজন নিহত হন।
এ ছাড়া আল-মাওয়াসি উপকূলীয় তাঁবু ক্যাম্পে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, নিহতদের একজন হলেন জরুরি সেবাকর্মী হুসেইন হাসান হুসেইন আল-সুমাইরি।
খান ইউনিস থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজ্জুম জানান, গাজা সিটির বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবনে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও এসব হামলার ফলে গাজার মানুষ কোনো স্বস্তি পাচ্ছে না।
আবু আজ্জুম আরো বলেন, ‘গত কয়েক ঘণ্টায় গাজাজুড়ে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। আকাশে ড্রোনের শব্দ শোনা যাচ্ছে, যা আরো সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।’
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উত্তর গাজায় তাদের সাঁজোয়া ইউনিট ও যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ‘রুটিন অপারেশন’-এর সময় এক রিজার্ভ সেনা কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত, ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার সীমারেখার কাছে ঘটেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল পূর্ব গাজার দিকে ‘ইয়েলো লাইন’-এর অবস্থান সরিয়ে নিচ্ছে, যা সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
চলতি বছরের অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৫২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১১:১৫:৫৪ ৫ বার পঠিত