সুদানে আরএসএফ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » সুদানে আরএসএফ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬



সুদানে আরএসএফ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

সুদানের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) একে অপরের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। গত সোমবার দেশটির দারফুর ও কর্দোফান অঞ্চলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সামরিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমাঞ্চলের দারফুর প্রদেশের জালিংগেই শহরে সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছে।
শহরটি বর্তমানে আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে জানায়, হামলার পর শহরের একটি ভবন থেকে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী বের হতে দেখা গেছে। সামরিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে ওই ভবনটি আরএসএফের একটি গুদাম ছিল।

এদিকে পাশের কর্দোফান অঞ্চলের ডিলিং শহরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে আরএসএফ।
সম্প্রতি সেনাবাহিনী সেখানে আধাসামরিক বাহিনীর দীর্ঘদিনের অবরোধ ভেঙে দেয়। এর পরই পাল্টা হিসেবে আরএসএফ এই হামলা চালাল। ড্রোনটি সরকারি একটি মানবিক সহায়তা সংস্থার কার্যালয়ে আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ডিলিং শহরটি যুদ্ধের অন্যতম সম্মুখভাগ হয়ে উঠেছে।

সামরিক সূত্র আরো জানায়, গত সপ্তাহে ডিলিংয়ের চারপাশে দুটি করিডর খোলার ঘোষণা দেওয়ার পর সেনাবাহিনী দক্ষিণ কর্দোফানের রাজধানী কাদুগলির দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

জাতিসংঘের তথ্য মতে, সংঘাতের কারণে কাদুগলি শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ (প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার) ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। গত অক্টোবরে দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি এল-ফাশের দখলের পর আরএসএফ এখন উর্বর ও বিস্তৃত অঞ্চল কর্দোফানের দিকে নজর দিয়েছে।

দক্ষিণ কর্দোফানের পরিস্থিতিকে ‘সুদানের সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং অবহেলিত এলাকা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের (এনআরসি) মহাসচিব জ্যান এগেল্যান্ড।

সোমবার ওই অঞ্চল পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, পুরো শহরের মানুষ ক্ষুধার্ত।
মানুষ সবকিছু ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এটি একটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ, যা দ্রুত এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের দিকে যাচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব যদি এখনই সুদানের দিকে নজর না দেয়, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

জাতিসংঘ বারবার সতর্ক করেছে যে, কর্দোফানেও এল-ফাশের মতো ভয়াবহ নির্যাতন ও গণহত্যার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এর আগে এল-ফাশের পতনের পর আরএসএফের বিরুদ্ধে নিরপরাধ মানুষ হত্যা, যৌন সহিংসতা ও অপহরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল।

সেনাবাহিনী ও তার প্রাক্তন মিত্র আরএসএফের এই গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘ একে বিশ্বের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট হিসেবে অভিহিত করেছে।

বাংলাদেশ সময়: ২২:৫৭:২১   ২ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আন্তর্জাতিক’র আরও খবর


সুদানে আরএসএফ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করতে বলল আরব আমিরাত
পাকিস্তানে ‘ভারতসমর্থিত’ ৯৯ সন্ত্রাসী নিহত
ইরানের বিক্ষোভে ট্রাম্প, নেতানিয়াহু এবং ইউরোপ ‘উত্তেজনা’ বাড়িয়েছে: পেজেশকিয়ান
গাজার রাফাহ ক্রসিং আংশিকভাবে খুলে দিচ্ছে ইসরায়েল
পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর অভিযানে ‘ভারত সমর্থিত’ ৪১ সন্ত্রাসী নিহত
ভিসা ছাড়াই চীন যেতে পারবেন ব্রিটিশ নাগরিকরা
গাজায় নিহতের সংখ্যার যথার্থতা স্বীকার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ
ভারতের পার্লামেন্টে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়ে নীরবতা পালন

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ