যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সেতু উদ্বোধন আটকে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সেতু উদ্বোধন আটকে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬



যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সেতু উদ্বোধন আটকে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাকে সংযুক্ত করা একটি সেতুর উদ্বোধন আটকে দেবেন বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ না পাবে, ততক্ষণ গর্ডি হোও ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ উদ্বোধন হবে না বলে তিনি এই হুমকি দিয়েছেন। এই ব্রিজটি কানাডার অন্টারিও প্রদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, অটোয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যায্যতা ও সম্মান দেখানো না পর্যন্ত এই সেতু চালু হতে দেওয়া হবে না।
প্রকল্পটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সেতুটির অর্থায়ন করছে কানাডা সরকার। তবে এটি কানাডা ও মিশিগান—দুই পক্ষেরই যৌথ মালিকানায় থাকবে।

এদিকে ডেমোক্র্যাট দলের মিশিগানের সিনেটর এলিসা স্লটকিন বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামো প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হলে তা ‘আমাদের অঙ্গরাজ্যের অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হবে।’

তিনি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, এই সিদ্ধান্তের গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।
এর ফলে মিশিগানের ব্যবসায়ীদের খরচ বাড়বে, সরবরাহব্যবস্থা কম নিরাপদ হবে এবং শেষ পর্যন্ত চাকরির সংখ্যা কমে যাবে। তবে ট্রাম্প কিভাবে সেতুর উদ্বোধন আটকাতে পারবেন, তা স্পষ্ট নয়। তিনি শুধু বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে অবিলম্বে আলোচনা শুরু হবে, কিন্তু বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ডেট্রয়েট নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন শেষ হলে চলতি বছরের শুরুর দিকেই যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা।
২০১৮ সালে নির্মাণকাজ শুরু হলেও, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বিরোধের বিষয় হয়ে আছে। কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (সিবিসি) জানায়, সেতুটি নির্মাণে প্রায় ৬.৪ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার (প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন পাউন্ড) খরচ হয়েছে।

ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্পদের কমপক্ষে অর্ধেক মালিকানা থাকা উচিত। তিনি আরো ইঙ্গিত দেন, কানাডা নাকি সেতুটির কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই পাশেরই মালিক। প্রকল্পটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সেতুটি নির্মাণ ও উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা উইন্ডসর-ডেট্রয়েট ব্রিজ অথরিটি পুরোপুরি কানাডা সরকারের মালিকানাধীন।

ট্রাম্প লেখেন, ‘কানাডা সরকার আশা করছে, আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাদেরকে সহজেই আমেরিকার সুযোগ নিতে দেব!’ তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কানাডাকে যা কিছু দিয়েছে, তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত আমি এই সেতু খুলতে দেব না।’

এ ছাড়া তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে দোষারোপ করেন, কারণ তার সময়ে কোনো মার্কিন স্টিল ব্যবহার না করেই সেতু নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে ট্রাম্পের দাবি। তবে সেতুর কানাডীয় পাশে অন্টারিওর উইন্ডসর শহরের মেয়র ড্রু ডিলকেন্স সিবিসিকে বলেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুল।

তিনি বলেন, ‘এটা একেবারেই পাগলামি। আমি যা পড়ছি, তা বিশ্বাসই করতে পারছি না।’

ডেট্রয়েটকে কানাডার সঙ্গে যুক্ত করা পাশের অ্যাম্বাসাডর ব্রিজের মার্কিন মালিক মোরাউন পরিবার ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নতুন সেতুর নির্মাণ বন্ধ করতে তার কাছে আবেদন জানিয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, নতুন সেতু চালু হলে টোল আদায়ের একচেটিয়া অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর জবাবে তখন ট্রাম্প ও তৎকালীন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো যৌথ বিবৃতিতে বলেন, এই সেতু দুই দেশের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংযোগ।

মিশিগানের ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার ট্রাম্পের সেতু বন্ধের হুমকির বিরোধিতা করে বলেন, এই প্রকল্পটি তার অঙ্গরাজ্যে কর্মসংস্থানের জন্য ভালো।

হুইটমারের প্রেসসচিব স্টেসি লারুশ সিবিসিকে বলেন, ‘এই প্রকল্পটি দ্বিদলীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি অসাধারণ উদাহরণ।’ সোমবার ট্রাম্প দুই দেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্য বিরোধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘কানাডা আমাদের দুগ্ধজাত পণ্যের ওপর যে শুল্ক বহু বছর ধরে আরোপ করে আসছে, তা অগ্রহণযোগ্য।’

তিনি আরো বলেন, গত মাসে কানাডা ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি বাণিজ্য চুক্তি কানাডাকে ধ্বংস করে দেবে। ট্রাম্প আরো দাবি করেন, ‘চীন প্রথমেই কানাডায় খেলা সব আইস হকি বন্ধ করে দেবে এবং স্থায়ীভাবে স্ট্যানলি কাপ বিলুপ্ত করবে।’ এর জবাবে সিনেটর স্লটকিন বলেন, কানাডা চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির কাছাকাছি যাওয়ার একমাত্র কারণ হলো ট্রাম্প এক বছরের বেশি সময় ধরে কানাডাকে চাপে রেখেছেন’।

তিনি আরো বলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু, শত্রু নয় এবং এই সেতু প্রকল্পকে আবার সঠিক পথে ফেরাতে তিনি কাজ করবেন। এদিকে কানাডার ব্রিজ কর্তৃপক্ষ, অন্টারিও প্রিমিয়ারের দপ্তর ও ডেট্রয়েটের মেয়রের দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

সূত্র: বিবিসি

বাংলাদেশ সময়: ১৭:১৮:১৮   ৫৬ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আন্তর্জাতিক’র আরও খবর


ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি নয় : হেগসেথের স্বীকারোক্তি
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে ইসলামাবাদে কূটনৈতিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠিত
ইসরায়েলে আহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ হাজার ছাড়িয়েছে
যুক্তরাষ্ট্র স্থল আগ্রাসন চালালে ইরানের পক্ষে লড়বে রাশিয়ার চেচেন আর্মি
সংকটাপন্ন কিউবায় তেল পৌঁছাতে যাচ্ছে রুশ ট্যাংকার
‘পুতিন ইরানকে সাহায্য করছেন, অথচ নেতানিয়াহু রাশিয়া- ইউক্রেনের মধ্যে ভারসাম্য চান’
ইরানের হামলায় দাউ দাউ করে জ্বলছে ইসরাইলি শিল্পাঞ্চল
হরমুজ প্রণালীতে মানবিক করিডর খুলতে জাতিসংঘের বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
হরমুজ প্রণালী দিয়ে মালয়েশিয়ার জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলো ইরান

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ