
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার তার প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠকে জানিয়েছেন, গাজা পুনর্গঠনের জন্য বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে ৭০০ কোটি ডলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রধান শর্ত— হামাস নিরস্ত্রীকরণ, যা এখনো বাস্তবতার কাছাকাছিও নেই।
গাজায় যুদ্ধবিরতির পর পুনর্গঠন, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং তহবিলের আকার— এসব বিষয় আগামী মাসগুলোতে বোর্ডটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ বক্তব্যের শেষে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই বোর্ডে ১ হাজার কোটি ডলার দেবে।
তিনি বলেন, কাজাখস্তান, আজারবাইজান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কো, বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব, উজবেকিস্তান ও কুয়েতসহ কয়েকটি দেশ প্রাথমিকভাবে ৭০০ কোটি ডলার দিয়েছে।
ট্রাম্প প্রথম এই বোর্ডের ধারণা দেন গত সেপ্টেম্বরে, যখন তিনি গাজা যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। পরে তিনি জানান, এই বোর্ড ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য সংঘাত নিয়েও কাজ করতে পারে।
তিনি আরো বলেন, ফিফা গাজায় ফুটবলসংক্রান্ত প্রকল্পে ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার দেবে এবং জাতিসংঘ মানবিক সহায়তায় ২০০ কোটি ডলার দেবে।
ট্রাম্প জানান, নরওয়ে বোর্ডের একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করবে, তবে পরে নরওয়ে স্পষ্ট করে যে তারা বোর্ডে যোগ দিচ্ছে না।
বোর্ড অব পিসে ইসরায়েল থাকলেও কোনো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি নেই। সমালোচকদের আশঙ্কা, এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে জাতিসংঘের ভূমিকা দুর্বল করতে পারে। ট্রাম্প অবশ্য বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘকে শক্তিশালী করব।
’
এই বৈঠক এমন সময় হয়েছে, যখন ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছেন এবং তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচি ছাড়তে অস্বীকার করলে বড় সামরিক প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলছেন। তিনি বলেন, ১০ দিনের মধ্যে বোঝা যাবে কোনো চুক্তি সম্ভব কি না।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজায় শান্তি বজায় রাখতে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী পাঠানো হবে। প্রাবোও সুবিয়ান্তো ঘোষণা করেছেন, ইন্দোনেশিয়া সর্বোচ্চ ৮ হাজার সেনা দিতে প্রস্তুত। এই বাহিনী প্রথমে ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত রাফাহ শহর থেকে কাজ শুরু করবে এবং নতুন পুলিশ বাহিনী গঠন করবে।
লক্ষ্য হচ্ছে ১২ হাজার পুলিশ প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং ২০ হাজার সেনা মোতায়েন করা।
হামাস নিরস্ত্রীকরণ বড় বাধা
হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিশোধের আশঙ্কায় তারা অস্ত্র হস্তান্তরে অনাগ্রহী। গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি আনতে ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই শর্ত রাখা হয়েছিল।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘খুব শিগগিরই হামাসের সামনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—শান্তিপূর্ণভাবে নিরস্ত্রীকরণ নাকি শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে।’
গাজায় হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, কোনো আন্তর্জাতিক বাহিনী এলে তাদের কাজ হবে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করা এবং ইসরায়েলি হামলা ঠেকানো। নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে তিনি সরাসরি প্রতিশ্রুতি দেননি।
হামাস জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ফিলিস্তিনি প্রযুক্তিবিদদের একটি কমিটির কাছে প্রশাসনিক দায়িত্ব দিতে প্রস্তুত, কিন্তু ইসরায়েল এখনো সেই কমিটিকে গাজায় ঢুকতে দেয়নি। বোর্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেন, নতুন অন্তর্বর্তী ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিতে ২ হাজার মানুষ আবেদন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমাদের এই পরিকল্পনা সফল করতেই হবে। গাজার জন্য বিকল্প পরিকল্পনা নেই। বিকল্প মানে আবার যুদ্ধ—যা কেউই চায় না।’
সূত্র : রয়টার্স
বাংলাদেশ সময়: ১২:০২:৫৯ ৫ বার পঠিত