সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

জামালপুরে নিয়ম ভেঙে এক সংযোগে দুই সেচ পাম্প, হুমকিতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » জামালপুরে নিয়ম ভেঙে এক সংযোগে দুই সেচ পাম্প, হুমকিতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬



জামালপুরে নিয়ম ভেঙে এক সংযোগে দুই সেচ পাম্প, হুমকিতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর

জামালপুর প্রতিনিধি : সরকারি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় একই বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে দুটি এলএলপি (লো লিফট পাম্প) সেচ যন্ত্র পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সরিষাবাড়ী পৌরসভার বাউসী উত্তরপাড়া গ্রামে জনৈক প্রভাবশালী ব্যক্তির এমন কর্মকাণ্ডে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত হ্রাস ও পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় ও বিএডিসি ক্ষুদ্রসেচ ইউনিট সূত্রে জানা যায়, বাউসী উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আমীর হোসেন রোকন তার বসতবাড়ি সংলগ্ন একটি টিনশেড ঘরে পাশাপাশি দুটি সেচ পাম্প স্থাপন করেছেন। মাত্র ৫-৬ ফুট দূরত্বে দুটি বোরিং থেকে একইসঙ্গে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত পানি একই হাউজে পড়ছে এবং একই ড্রেনের মাধ্যমে ইরি-বোরো মৌসুমে ধানক্ষেতে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) ক্ষুদ্রসেচ ইউনিটের বিধি অনুযায়ী একটি সেচ পাম্প থেকে অন্যটির ন্যূনতম দূরত্ব ৮২০ ফুট হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু একই ব্যক্তি কাছাকাছি দূরত্বে একাধিক পাম্প বসানো লাইসেন্স নীতিমালার সরাসরি পরিপন্থী।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর উপজেলা সেচ কমিটির ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সরিষাবাড়ী উপজেলা ক্ষুদ্রসেচ ইউনিটের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও সেচ কমিটির সদস্য সচিব আবু সাঈদ দেলোয়ার মিন্টু জানান, “নির্ধারিত দূরত্ব না মানলে লাইসেন্স দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ প্রতারণার আশ্রয় নিলে তদন্ত সাপেক্ষে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের সুপারিশ করা হবে।”

অন্যদিকে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাহিদ মোহাম্মদ আনোয়ারুজ্জামান জানান, সেচ কমিটির সুপারিশ পেলে তারা প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আমীর হোসেন রোকন দাবি করেন, তিনি নিয়ম মেনেই লাইসেন্স নিয়েছেন। তবে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মহলে আরও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন অব্যাহত থাকলে ওই অঞ্চলে পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাবে। এতে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের টিউবওয়েলে পানি না পাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী কৃষি সংকট তৈরি হতে পারে। স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এই অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৮:১৩   ৫৯ বার পঠিত