![]()
জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবেশীর লাগানো গাছ কর্তন ও বাউন্ডারি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলার রুদ্রপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুদ্র বয়ড়া গ্রামের মৃত কছিম উদ্দিন সরকারের ছেলে গণ মিয়ার মালিকানাধীন জমিতে লাগানো বেশ কিছু সুপারি ও আম গাছ কেটে ফেলা হয়। একই সঙ্গে সীমানায় থাকা বাঁশের খুঁটি ও প্লাস্টিকের নেটের বাউন্ডারি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে আজাদুল কবীর অভিযোগ করেন যে, রোববার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে পোগলদিঘা ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি মানিক মিয়া, তার বড় ভাই মামুন এবং একজন শ্রমিককে সাথে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালান।
ভুক্তভোগীদের দাবি, মানিক মিয়া তার রাজনৈতিক পরিচয় ও পদের দাপট দেখিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। এই কর্মকাণ্ডের ফলে তাদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত যুবদল নেতা মানিক মিয়া সরাসরি জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন,
“ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। আমার বড় ভাই মামুন এই কাজটি করেছেন।”
যদিও তার এই বক্তব্যে ঘটনার সত্যতা এবং পারিবারিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি পরোক্ষভাবে উঠে এসেছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে পোগলদিঘা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সাকিবুল হাসান সুমন ফকির বলেন,
“দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অনৈতিক বা উশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি বাচ্চু মিয়া জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, প্রকাশ্য দিবালোকে এমন কর্মকাণ্ডের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপূরণ আদায়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৩:২৬:১৯ ২২০ বার পঠিত