![]()
বাংলাদেশজুড়ে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ, কৃষি জমি সুরক্ষা এবং দ্রুত নগরায়ন ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আজ জাতীয় সংসদে ‘সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনা বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের উত্থাপিত সমন্বিত আইনি কাঠামোর বিলটি ‘সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিল করে ভূমি ব্যবহার ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি সুসংগঠিত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করবে।
প্রস্তাবিত আইনে সারা দেশের প্রতিটি অংশকে পরিকল্পনার আওতায় আনতে তিনটি স্তরের স্থানিক পরিকল্পনা চালুর কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো— জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা (এনএসপি), আঞ্চলিক স্থানিক পরিকল্পনা (আরএসপি) এবং স্থানীয় স্থানিক পরিকল্পনা (এলএসপি)।
আইন বাস্তবায়ন তদারকির জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘ন্যাশনাল স্থানিক পরিকল্পনা কাউন্সিল’ গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এই কাউন্সিলে প্রায় ২০টি মন্ত্রণালয়ের সচিব, সিটি করপোরেশনের মেয়র, বুয়েট এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
এছাড়া, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে সমন্বয় ও অমিল দূর করতে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি এবং জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে জেলা কমিটি গঠন করা হবে।
অপরিকল্পিত নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে এই আইনে। খসড়া অনুযায়ী, অনুমোদিত পরিকল্পনার পরিপন্থী কোনো কার্যক্রম ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করতে পারবে না। অবৈধ প্রকল্প বন্ধ এবং অননুমোদিত স্থাপনা ভেঙে ফেলার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে। আইন ভঙ্গকারীদের সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অনুযায়ী এসব অপরাধের বিচার করা হবে।
বিলের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, দ্রুত নগরায়নের ফলে শহরে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেড়েছে, যার কারণে মূল্যবান কৃষিজমি ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।
নতুন আইনে স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পুনর্বাসন পরিকল্পনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে সব খসড়া পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে। নাগরিকদের মতামত ও আপত্তি গ্রহণে ৩০ দিনের গণশুনানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
এদিকে, দিনের অধিবেশনে আরো বেশ কিছু বিল পাস করা হয়েছে, যেগুলো অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রণীত।
সংসদে পাস হওয়া অন্য বিলগুলো হলো— সরকারি হিসাব নিরীক্ষা বিল, ২০২৬; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সংরক্ষণ ও সুরক্ষা (সংশোধন) বিল, ২০২৬; শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (সংশোধন) বিল, ২০২৬; পানি সংরক্ষণ ও নিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল, ২০২৬; সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল, ২০২৬; জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) বিল, ২০২৬; জাতির পিতার পরিবার সদস্যদের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬; পরিত্যক্ত বাড়ি সম্পূরক বিধানাবলী (সংশোধন) বিল, ২০২৬; বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (সংশোধন) বিল, ২০২৬; বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল, ২০২৬; বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬ এবং কোড অফ সিভিল প্রসিডিউর (সংশোধন) বিল, ২০২৬।
বাংলাদেশ সময়: ০:০০:১১ ১৪ বার পঠিত