জাতীয় সংসদে ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’ পাস

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » জাতীয় সংসদে ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’ পাস
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬



জাতীয় সংসদে ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’ পাস

সংসদ ভবন, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ : আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় এবং দেশের আর্থিক খাতে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আজ জাতীয় সংসদে ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে।

বর্তমান ‘ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০’ রহিত করে আর্থিক খাতে আস্থা বৃদ্ধি এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সময়োপযোগী ও আরও শক্তিশালী আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে এ বিল আনা হয়।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করেন এবং কণ্ঠভোটে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

বিলটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আমানত বীমার সীমা দ্বিগুণ করা হয়েছে। বর্তমানে যেখানে প্রতি আমানতকারীর জন্য ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সুরক্ষা ছিল; তা বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ এই আইনের আওতায় কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে আমানতকারীরা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বীমা সুরক্ষা পাবেন।

বিলের উদ্দেশ্য অনুযায়ী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাখা আমানতের জন্য একটি নিরাপদ আইনি কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে আর্থিক ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা বাড়ানো।

আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশে পরিচালিত সকল তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এই ব্যবস্থার সদস্য হতে হবে।

বিল অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকে দুটি পৃথক তহবিল গঠন করা হবে- ১. আমানত সুরক্ষা তহবিল (ব্যাংক কোম্পানি)। ২. আমানত সুরক্ষা তহবিল (ফাইন্যান্স কোম্পানি)। এই তহবিলগুলো পরস্পরের থেকে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য দায় থেকে সম্পূর্ণ পৃথক থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদই এই তহবিলগুলোর ট্রাস্টি বোর্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

বিলের আওতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে প্রথমবারের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সুরক্ষা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, বিদ্যমান ও নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্ত সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ১ জুলাই, ২০২৮ সালের মধ্যে এই ব্যবস্থার সদস্য হতে হবে।

সুরক্ষার সীমা বিষয়ে বলা হয়েছে, কোনো সদস্য প্রতিষ্ঠান অবসায়নে গেলে প্রতিটি আমানতকারী সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত তহবিল থেকে পাবেন।

এই সীমা প্রতি তিন বছর পরপর সরকার পর্যালোচনা ও পুনঃনির্ধারণ করতে পারবে। আমানতের পরিমাণ এই সীমার বেশি হলে; বাকি টাকার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লিকুইডেটরের কাছে দাবি জানানো যাবে।

তহবিল গঠন হবে মূলত সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রদেয় প্রিমিয়ামের মাধ্যমে। ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে তাদের গড় আমানতের ভিত্তিতে প্রতি তিন মাস অন্তর প্রিমিয়াম দিতে হবে।

প্রিমিয়াম সময় মতো পরিশোধ না করলে ট্রাস্টি বোর্ড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর জরিমানা আরোপ বা আমানত গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে।

দাবি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে; যাতে দ্রুত অর্থ প্রদান নিশ্চিত করা যায়। কোনো প্রতিষ্ঠান অবসায়নের নির্দেশ জারি হলে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিকুইডেটরকে আমানতকারীদের তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরবর্তী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে সুরক্ষিত আমানতের অর্থ পরিশোধ করবে।

তহবিলের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে তহবিল সুরক্ষা তহবিল থেকে অর্জিত সব আয় ও মুনাফাকে প্রত্যক্ষ কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৪৬:২৫   ১৫ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

ছবি গ্যালারী’র আরও খবর


আল কোরআন ও আল হাদিস
বুড়িচংয়ে ২০ কেজি গাঁজাসহ মা-ছেলে গ্রেপ্তার
যুদ্ধ অথবা যুদ্ধবিরতি, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান
আমি সকল নাগরিকের প্রশাসক হতে চাই: নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত
সরকারি দল বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে: বিরোধীদলীয় নেতা
সংসদে বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধনী) বিল ২০২৬ পাস
ফরিদপুরে ১৩০ পুরিয়া হেরোইনসহ ৩ মাদককারবারি গ্রেফতার
দেওয়ানগঞ্জে বেশি দামে সার ও মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক বিক্রি, ৩ ব্যবসায়ীকে জরিমানা
জাতীয় সংসদে আজ ২৪টিসহ চলতি অধিবেশনে মোট ৯১টি বিল পাস
এলাকাবাসীর কাছে মুচলেকা দিয়ে মাদক ছাড়লেন সরিষাবাড়ীর ৬ তরুণ

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ