
জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনে দায়িত্বরত স্টেশন মাস্টারের চরম অবহেলায় এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন শত শত যাত্রী। লাইন ক্লিয়ার না থাকা সত্ত্বেও ট্রেন প্রবেশের অনুমতি দেওয়ায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ‘৩৭ আপ’ ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। চালকের বুদ্ধিমত্তা এবং ট্রেনের গতি কম থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি ও বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা যমুনা সেতু পূর্ব স্টেশনগামী ‘৩৭ আপ’ লোকাল ট্রেনটি সরিষাবাড়ী স্টেশনে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রবেশ করে। বিরতি শেষে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ট্রেনটি স্টেশন ত্যাগ করার কিছুক্ষণ পরই হোম সিগনালের নিকট বিকট শব্দে থেমে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিয়ম অনুযায়ী স্টেশন মাস্টারের লাইন ক্লিয়ার নিশ্চিত করার পর সংকেত দেওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে লাইন ক্লিয়ার ছিল না। ভুল সংকেতের কারণে ট্রেনটি স্টেশনে প্রবেশের সময় লাইনচ্যুত হওয়ার উপক্রম হয় এবং রেলওয়ের মূল্যবান “সুইস রেল” যন্ত্রাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা জানান, স্টেশন থেকে সবুজ সংকেত দেওয়া হলেও লাইনে ত্রুটি ছিল। ট্রেনের গতি কম থাকায় আজ ভাগ্যক্রমে কয়েকশ যাত্রী প্রাণে বেঁচে গেছেন। তারা এই ঘটনার জন্য সরাসরি স্টেশন মাস্টারের দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকে দায়ী করে তার কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনার ফলে সরিষাবাড়ী রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়। খবর পেয়ে দ্রুত জামালপুর থেকে রেলওয়ের দক্ষ টেকনিশিয়ান ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কয়েক ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টায় লাইন মেরামত করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবুল কাশেম হাওলাদার নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, “দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এমনটি হয়েছে। আমার বিষয়টি ভুল হয়েছে।”
রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও, সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ২০:০৭:০৩ ১৭ বার পঠিত