
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় হিমালয় অঞ্চলের জনগোষ্ঠী ও দুর্দশাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো জরুরি। মন্ত্রী বলেন, সরকার সুষম উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে।
আজ ঢাকার রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে কানাডা সরকারের অর্থায়নে ‘গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা’ (জিএসি)-এর মাধ্যমে বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় গৃহীত ‘হিন্দু-কুশ হিমালয় অঞ্চলে সমন্বিত জলবায়ু অভিযোজন সমাধান’ (হাই-কাস) প্রকল্পের উদ্বোধনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ঝর্ণা ও প্রাকৃতিক পানির উৎসের অবক্ষয় সরাসরি পানি নিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদনকে ব্যাহত করছে। বান্দরবানের সুয়ালক ও খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় এই পাইলট প্রকল্পের সাফল্য পর্যায়ক্রমে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, সরকার পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক।
প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি ‘রেইনবো নেশন’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চান, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। প্রকৃতির পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কৃষি জীববৈচিত্র্যের ওপর জোর দেওয়া একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। জনকল্যাণে গৃহীত সকল প্রকল্পে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলামসহ অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আরণ্যক ফাউন্ডেশন ও ইসিমোড (ICIMOD)-এর প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় বক্তারা লিঙ্গ সংবেদনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রকৃতির প্রতি ইতিবাচক জীবিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ সময়: ২২:২৯:৫৮ ৯ বার পঠিত