![]()
জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের ইসলামপুরে প্রাক্তন স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও বিপাকে রয়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী। এদিকে, অভিযুক্তদের দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার ও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে ইসলামপুর উপজেলার চিনারচর এলাকায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং যুবদল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের জোর দাবি জানান।
মামলার প্রধান অভিযুক্ত শাহানুর রহমান পলাশ চরপুটিমারী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব এবং ভুক্তভোগী নারীর প্রাক্তন স্বামী। অন্য অভিযুক্ত আব্দুল কুদ্দুস একই ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
ভুক্তভোগী ওই নারী অভিযোগ করে জানান, পলাশের সাথে বিয়ের পর প্রায় এক বছর তারা সংসার করেন। পরবর্তীতে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। কিন্তু দাম্পত্য জীবনে থাকার সময় পলাশ গোপনে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে রাখেন। বিচ্ছেদের পর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে সেই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।
সম্মানহানির শিকার হয়ে ওই নারী গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহ সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা করার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাশ ও তার সহযোগীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে। বিএনপির দলীয় প্রভাব ও নাম ব্যবহার করে তাদের চরম ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চরপুটিমারী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুস দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত এবং সদস্য সচিব শাহানুর রহমান পলাশ জুয়া ও নারী কেলেঙ্কারির সাথে সম্পৃক্ত। তাদের এসব অপকর্মের কারণে এলাকায় সামাজিক অবক্ষয় চরমে পৌঁছেছে।
অভিযোগের বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রধান অভিযুক্ত শাহানুর রহমান পলাশ দাবি করেন, “আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে প্রতিপক্ষরা আমার প্রাক্তন স্ত্রীকে দিয়ে এসব করাচ্ছে। ছবি ও ভিডিও আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করিনি। মাদকের সাথেও আমার কোনো সম্পর্ক নেই।
” অপর অভিযুক্ত আব্দুল কুদ্দুস নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমি ওই মেয়েকে চিনতাম না। ফেসবুকে ছবি আসার পর জানতে পারি সে পলাশের দ্বিতীয় স্ত্রী। সামনে আমি ইউপি সদস্য (মেম্বার) পদে নির্বাচন করব, তাই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা এই মেয়েকে দিয়ে আমার নামে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানি করছে।”
এ বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো: হেলাল উদ্দিন জানান, “আমরা বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি। জেলা কমিটি থেকে একটি তদন্ত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। আমরা সরেজমিনে তদন্ত করে বিস্তারিত তথ্য জেলায় পাঠানোর পর, জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জামালপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সজীব খান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা মাসখানেক আগেই অবগত হয়েছি। উপজেলা যুবদলকে তদন্ত করে একটি প্রস্তাবনা পাঠাতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে আমাদের কাছে তাদের বিরুদ্ধে কিছু তথ্য-প্রমাণ এসেছে। প্রস্তাবনা হাতে পেলেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মামলার অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, “আদালত থেকে মামলার কোনো নথি বা আদেশ এখনো থানায় আসেনি। নথি হাতে পেলেই দ্রুত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বাংলাদেশ সময়: ২২:৫৪:৩১ ৩২ বার পঠিত