
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ সোমবার ঘোষণা করেছেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সকে (বিএসএফ) জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আজ থেকে শুরু হবে। এই হস্তান্তর ৪৫ দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে।
শনিবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সোমবার প্রথমবার সচিবালয় নবান্নে অফিস করেন শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ১৪ তলায় মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সেই বৈঠকে এসব কথা বলা হয়। বৈঠকে তার সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও নিশীথ প্রামাণিক উপস্থিত ছিলেন। তবে এখনো তাদের দপ্তর (বিভাগ) বণ্টন করা হয়নি।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ মোকাবেলার বিষয়ে বিজেপির একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ হলো।
বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভূমিধস বিজয়ের কয়েকদিন পর নবান্নে (রাজ্য সচিবালয়) প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বিএসএফ পাবে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আজ আমাদের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই আমরা বিএসএফকে জমিটি হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই প্রক্রিয়া আজ থেকে শুরু হচ্ছে এবং আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে। এটি সম্পন্ন হলেই বিএসএফ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ শেষ করবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই অবৈধ অনুপ্রবেশের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
’
বিধানসভা নির্বাচনের সময় অনুপ্রবেশ ইস্যু একটি বড় রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে ওঠে। বিজেপি বারবার অভিযোগ করে, তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) ভোট ব্যাংক রাজনীতির কারণে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের জন্য সীমান্ত কার্যত খোলা রাখছে।
নির্বাচনী প্রচারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সব জমি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় চার হাজার ৯৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার ২৪০ কিলোমিটার এলাকায় ইতিমধ্যেই বেড়া দেওয়া হয়েছে।
তবে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার সীমান্ত এখনো বেড়াবিহীন, যার মধ্যে কিছু অংশ দুর্গম এলাকা হওয়ায় কাজ করা কঠিন।
বিজেপি বারবার অভিযোগ করেছে, পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) সরকারের জমি হস্তান্তরে বিলম্বের কারণে বেড়া দেওয়ার প্রক্রিয়াটি ধীর হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে টিএমসি দাবি করেছে, বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করার আগে স্থানীয় জমি ও জীবিকা সংক্রান্ত উদ্বেগের সমাধান করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, পূর্ববর্তী মমতা সরকারের আমলে প্রস্তাবিত ১২৭ কিলোমিটার পথের মধ্যে মাত্র প্রায় ৮ কিলোমিটার সিল করা হয়েছিল। টিএমসি শাসনামলে সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রম বিএসএফ-এর অধীনেই ছিল, কারণ আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের আওতাধীন। তবে বেড়া দেওয়ার প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ, স্থানীয় অনুমতি এবং প্রশাসনিক সমন্বয় রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
২০২১ সালে কেন্দ্র যখন বাংলায় সীমান্ত এলাকার অভ্যন্তরে বিএসএফ-এর এখতিয়ার ১৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করে, তখন এই বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য, গত মাসের বিধানসভা নির্বাচনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। গত ৯ মে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পক্ষ থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়। পরে বিজেপির এই নেতা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
গত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেকটি বড় নির্বাচনে তৃণমূলের কাছে পরাজিত হওয়ার পর এবারই প্রথম বিশাল জয় পেয়েছে বিজেপি। রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয়ী হয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন এই দল।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৪৯:৫৫ ৬ বার পঠিত