
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সদরপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে অমানবিক নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার মামলায় স্বামী নুরজামাল মিয়াকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আজ রবিবার দুপুর ২টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় নুরজামাল মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাকে পুলিশ প্রহরায় জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, সদরপুর উপজেলার টেউখালী গ্রামের বাসিন্দা নুরজামাল মিয়ার সঙ্গে প্রায় ৮ বছর আগে একই এলাকার মুর্শিদা বেগমের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী নুরজামাল বিভিন্ন অজুহাতে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন।
অভিযোগে বলা হয়, নুরজামাল মাদকাসক্ত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। সংসার চালানোর পাশাপাশি স্ত্রীর বাবার বাড়ি থেকে একাধিকবার টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। এ সময় ভুক্তভোগীর পরিবার কয়েক দফায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা দিলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ২৪ মে রাতে আরো ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে স্ত্রীকে মারধর শুরু করেন নুরজামাল। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে ঘরের ভেতর আটকে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত ভেবে টয়লেটের সেপটি ট্যাংকির মধ্যে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর জখম অবস্থায় মুর্শিদা বেগমকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর মুর্শিদা বেগমের বাবা ফজলু মোল্লা বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ৪ জুন সদরপুর থানায় নির্যাতন ও হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের নারী ও শিশু নিযাতন দমন আইনে মামলা করেন।
পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম ওই বছর ২১ সেপ্টেম্বর মুর্শিদা বেগমের স্বামী নুরজামাল মিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী রতন বলেন, যৌতুকের দাবিতে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ড প্রদান করেছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫৭:৪৫ ৩২ বার পঠিত