![]()
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায় জড়িত ৮৩৪ অপরাধীকে ধরতে নগরীতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। গত মঙ্গলবার (২ জুন) কেএমপি ও অন্যান্য বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট একসঙ্গে এই বিশেষ অভিযান শুরু করে।
কেএমপি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার থেকে এ অভিযান শুরু করার পর গত দুই দিনে হত্যা, ডাকাতি ও মাদক মামলায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে অভিযানের প্রথম রাতেই যুবক রাশেদ হত্যাকা-ে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে লবণচরা থানা পুলিশ। পাশাপাশি গ্রেনেড বাবুর সহযোগীসহ ৪ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পুলিশ জানায়, এই অভিযানে নগরীর ৮ থানার ১৮১ জন সন্ত্রাসী, ৫৮৪ জন মাদক বিক্রেতা এবং ৬৯ জন চাঁদাবাজকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে এ অভিযান শুরু করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগে বেপরোয়া হয়ে ওঠে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে একের পর এক হত্যাকা-, গোলাগুলি ও কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটে। এ সময়ে নীরব চাঁদাবাজি ও প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ ৫ মাসে ১১ জন, ২০২৫ সালে ৩৭ জন এবং চলতি বছরের ৩ জুন পর্যন্ত নগরীতে ১৭টি হত্যাকা- ঘটেছে। গুলি করে ও কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে শতাধিক। এসব সন্ত্রাসী কর্মকা-ে কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনীর নাম আসছে। যার বেশিরভাগকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
নগরীর ৮ থানায় ১৮১ জন সন্ত্রাসী, ৫৮৪ জন মাদক বিক্রেতা এবং ৬৯ জন চাঁদাবাজের খসড়া তালিকা প্রস্তুত করে কেএমপি। পরে এবছর মে মাসে কেএমপি একটি হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে।
সূত্রটি জানায়, গতকাল বুধবার কেএমপি সদর দপ্তরে খুলনা শহরের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কেএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এ সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ।
পুলিশ জানায়, অভিযানের শুরুতেই নগরীর স্কুল ভিটা এলাকায় রাশেদ হত্যা মামলার ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা ওই হত্যাকা-সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িত ছিলেন। তাদের মোবাইলে সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি কোম্পানির হয়ে প্রচারণার ছবি পাওয়া গেছে। এছাড়া গ্রেনেড বাবুর সহযোগী রাব্বিসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বাসসকে জানান, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে কেএমপি ও অন্যান্য বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট। এ অভিযানে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ, র্যাব-৬ এবং খুলনার বিভিন্ন পুলিশ ইউনিট, (যেমন: খুলনা জেলা, ৩ এপিবিএন খুলনা) যৌথভাবে অংশগ্রহণ করছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আভিযানিক দলগুলো চিহ্নিত তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
তিনি জানান, আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ১৩ জন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশকে অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে অভিযানে সহযোগিতার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন কেএমপির এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩৯:৪১ ১২ বার পঠিত