
জামালপুর প্রতিনিধি : মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের এক মামলায় জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পেরিয়াটা গ্রামের চিহ্নিত মাদকসম্রাট মিন্টু মিয়া ও তার স্ত্রী সীমা বেগমের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক (জব্দ) করেছে আদালত।
আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের বাউসী মৌজায় ক্রোককৃত জমিতে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টানিয়ে সম্পত্তি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় প্রশাসন। এ বিষয়টি
নিশ্চিত করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিজা রিছিল।
সরিষাবাড়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. আবু শামীম আজাদের স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসাথে ক্রোককৃত তফসিলভুক্ত সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিআইডির পক্ষে অতিরিক্ত আইজিপি (সিআইডি), ঢাকাকে তত্ত্বাবধায়ক (রিসিভার) নিয়োগ করা হয়েছে।
আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী, সীমা বেগমের নামে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় থাকা ৬ শতাংশ জমি এবং মিন্টু মিয়ার নামে সরিষাবাড়ীর বাউসী মৌজায় থাকা ১১ শতাংশ জমি ক্রোক করা হয়।
ভূমি পরিমাপ ও সাইনবোর্ড স্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিজা রিছিল, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, এসআই শিব্বির আহমেদ ও এসআই মিজানুর রহমান, সিআইডি জামালপুর এবং সরিষাবাড়ী থানার
এসআই সুব্রত কুমার সরকার।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী ক্রোককৃত সম্পত্তি বিক্রয়, হস্তান্তর বা দখল পরিবর্তন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই সম্পত্তিগুলো আদালত নিযুক্ত তত্ত্বাবধায়কের অধীনেই সংরক্ষিত থাকবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিন্টু মিয়া মূলত একজন মাদকসম্রাট এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। মাদক ব্যবসার অবৈধ আয়ে তিনি নিজের ও স্ত্রীর নামে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলেন,
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ক্রোক হওয়া জমি ছাড়াও ভাটারা ইউনিয়নের পেরিয়াটা গ্রামে মিন্টুর স্ত্রী সীমা বেগমের নামে আরও ৮ শতাংশ জমির ওপর তিন তলা ফাউন্ডেশনের একটি একতলা পাকা বাড়ি রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা।
মাদক ব্যবসা ও অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে সরকারের এমন কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।
বাংলাদেশ সময়: ১০:০৩:২৪ ১৬ বার পঠিত