![]()
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর হামলার দিন তিনি একই ভবনে উপস্থিত ছিলেন এবং অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। লেবাননের টেলিভিশন চ্যানেল আল-মায়াদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন ইরানের এই কূটনীতিক।
১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় তিনি নিহত হন। আল-মায়াদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রথমবারের মতো খামেনির শাহাদাতের ঘটনার মর্মান্তিক বিবরণ প্রকাশ করেছেন আরাঘচি।
আরাঘচি বলেন, জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনা নিয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে সেদিন সকাল ৯টার দিকে তিনি সুপ্রিম লিডারের কার্যালয়ে যান। তার উদ্দেশ্য ছিল খামেনিকে জানানো যে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
আরাঘচির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কার্যালয়ের একটি কক্ষে অপেক্ষা করছিলেন, এমন সময় ভবনটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তবে সৌভাগ্যক্রমে তিনি যে অংশে অবস্থান করছিলেন, সেটা হামলার ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়।
তিনি বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বের হয়ে আসার পর আমার মাথায় একটাই চিন্তা ছিল, সুপ্রিম লিডারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কি না, তিনি নিরাপদ আছেন কি না।’ আরাঘচি জানান, ভবন থেকে বেরিয়ে তিনি সরাসরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চলে যান। সেখানেই তিনি জানতে পারেন যে, সুপ্রিম লিডার নিহত হয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঘটনার পরবর্তী ৪০ দিন তিনি নিজের বাসা কিংবা কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে যাননি। ওই সময় পুরোটা তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অবস্থান করে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেন এবং চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।
নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে অস্বীকৃতি খামেনির
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন, তৎকালীন সংকটময় সময়ে ইরানকে ঘিরে ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি ও হুমকি থাকা সত্ত্বেও সর্বোচ্চ নেতা নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
সাংবাদিক আরাঘচির কাছে জানতে চান, খামেনিকে কি সত্যিই অত্যন্ত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন? জবাবে আরাঘচি বলেন, খামেনি বলেছিলেন: ‘ইরানের প্রতিটি মানুষ যদি নিরাপদ আশ্রয় ও বাঙ্কারে যাওয়ার সুযোগ পায়, তবেই আমি নিরাপদ স্থানে যাব। যেহেতু বর্তমানে সেই সুযোগ সবার জন্য নেই, তাই আমিও জনগণের সঙ্গে মাটির ওপরই থাকব। আমার জনগণের ভাগ্যে যা ঘটবে, আমার ক্ষেত্রেও তাই ঘটবে।’
আরাঘচি বলেন, এই বক্তব্যই দেখিয়ে দেয় হৃদয় জয় করা একজন নেতার সঙ্গে কেবল রাষ্ট্র পরিচালনাকারী নেতার পার্থক্য। তার ভাষায়, ‘আমাদের নেতা মানুষের হৃদয় শাসন করতেন।’
সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা সরাসরি খামেনির কাছ থেকেই এসেছিল। আরাঘচি বলেন, ‘বাস্তবে যুদ্ধসংক্রান্ত নির্দেশগুলো সরাসরি তার পক্ষ থেকেই দেওয়া হয়েছিল।’
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাদের মিত্রদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে আরাঘচি বলেন, ইরানের পাল্টা জবাব দেখে পুরো বিশ্বই বিস্মিত হয়েছিল।
তার মতে, তেহরানের বিরুদ্ধে যে মাত্রার হামলা চালানো হয়েছিল, তাতে অনেকেই মনে করেছিলেন ইরান তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দিতে সক্ষম হবে না। কিন্তু ইরান দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৫১:৩৮ ৯ বার পঠিত