মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

আইএলও সম্মেলনে বৈষম্যহীন শ্রম ব্যবস্থা ও নতুন কর্মসংস্থানের আহ্বান বাংলাদেশের

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » আইএলও সম্মেলনে বৈষম্যহীন শ্রম ব্যবস্থা ও নতুন কর্মসংস্থানের আহ্বান বাংলাদেশের
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬



আইএলও সম্মেলনে বৈষম্যহীন শ্রম ব্যবস্থা ও নতুন কর্মসংস্থানের আহ্বান বাংলাদেশের

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে বিশ্ব শ্রম ব্যবস্থাকে আরও গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন করার জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ।

একইসঙ্গে স্বল্পোন্নত ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে বৈশ্বিক উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের মূল অধিবেশনে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ আহ্বান জানান।

সম্মেলনের বিশেষ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন উরুগুয়ের শ্রমমন্ত্রী জুয়ান কাস্তিলো।

বক্তব্যের শুরুতেই শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য মানুষের অধিকার, শ্রমিকের অধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।

আইএলসি’র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহানকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বিশ্বনেতাদের ধন্যবাদ জানান।

বিশ্বের বর্তমান নানা সংকটের কথা তুলে ধরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), যুদ্ধবিগ্রহ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আজ মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি ও রোহিঙ্গা শ্রমিকরা আজ চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরিফুল হক চৌধুরী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

দেশের শ্রম খাতের আধুনিকায়নে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, শ্রমিকদের সুবিধার্থে ইতোমধ্যে শ্রম আইন সংশোধন করা হয়েছে এবং ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের ইপিজেডগুলোকে নতুন শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে যে কোনো বিরোধ দ্রুত মেটাতে ৬টি নতুন শ্রম আদালত গঠন ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে কলকারখানা পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মালিক-শ্রমিক ও সরকারের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ আরও বাড়াতে একটি বিশেষ জাতীয় ফোরামও তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের বড় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশের নারীদের স্বাবলম্বী ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত উপবৃত্তিসহ মেয়েদের পড়াশোনা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করার ঘোষণা দিয়েছেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ ‘জেন্ডার রোডম্যাপ’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম মানদ- বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি আরও তিনটি আইএলও কনভেনশন পাসের মাধ্যমে এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবকটি মৌলিক আইএলও কনভেনশন অনুমোদন করার গৌরব অর্জন করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে অনুমোদিত কনভেনশনের সংখ্যা ৩৯টি, যা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিশ্বের ধনী দেশগুলোর আধিপত্যের কথা উল্লেখ করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, যে পৃথিবীতে শ্রম দিয়ে সম্পদ তৈরি হয়, সেখানে কোনো দেশের অর্থনীতির আকার দেখে শ্রমের মূল্য নির্ধারণ করা ঠিক নয়।

তিনি আরও বলেন, আজ ১২৯টি দেশের সম্মিলিত দাবি মাত্র কয়েকটি দেশের কারণে আটকে আছে।
এই বৈষম্য দূর করতে মন্ত্রী আইএলও-কে আরও গণতান্ত্রিক করার আহ্বান জানান।

একইসঙ্গে তিনি স্বল্পোন্নত ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৪৪:০২   ১২ বার পঠিত