
ঢাকার মিরপুরে অবহেলা ও বিনা চিকিৎসায় বৃদ্ধ নূরজাহান বেগমের করুণ মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন সংশোধন ও মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ আদালত (স্পেশাল কোর্ট) গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এক ছায়া সংসদে এই দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
‘ভরণপোষণ আইন দ্বারা সন্তানের ওপর পিতা-মাতার অধিকার আদায় করা সম্ভব’ শীর্ষক এই প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, নূরজাহান বেগমের করুণ মৃত্যুর ঘটনায় আইনের সাজার বিধান মেনে তার সরকারি চাকরিজীবী ছেলেকে বরখাস্ত করা যেতে পারে। শিক্ষিত পরিবারেও অতি অর্থের লোভ ও স্বাবলম্বী হওয়ার অহংকারে সন্তানরা বৃদ্ধ মা-বাবাকে অবহেলা করছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু মা-বাবা নন, প্রতিবেশীরা অভিযোগ করলেও তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। সন্তানের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন সংশোধন করে তাকে সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার বিধান রাখা যেতে পারে। তবে শুধু আইন নয়, পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও জরুরি।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বেহেশত তুল্য মা-বাবা বার্ধক্যে উপনীত হলে যারা নির্যাতন করে তারা মানুষরূপী পশু, অমানুষ, সমাজের কলঙ্ক, তাদের জীবন অভিশপ্ত। চরম অভিশপ্ত এই মানুষগুলো সমাজের আবর্জনা, সভ্যতার অভিশাপ, জন্মই তাদের আজন্ম বৃথা।’
তিনি আরও বলেন, মা-বাবারা শুধু মানসিক অবহেলা, অবজ্ঞা, অবরুদ্ধ থাকা কিংবা আর্থিকভাবে ঠকানোর শিকার ছাড়াও মারধরের মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেক সন্তান মা-বাবার পেনশনের টাকা কেড়ে নিয়ে, জমিজমা, ঘরবাড়ি, সহায়সম্পত্তি লিখে নিয়ে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। যা খুবই দুঃখজনক।
ঘোষিত বাজেটে বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের ট্রেন ও মেট্রোরেল ভাড়ায় ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে মাত্র ৬-৭টি বৃদ্ধ নিবাস রয়েছে, যেগুলোর অবস্থা করুণ। সামাজিক সুরক্ষা খাতের বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রতি জেলায় একটি করে আধুনিক প্রবীণ নিবাস তৈরি করা উচিত।
ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতায় সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজকে পরাজিত করে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক আহাম্মেদ সরোয়ার, সাংবাদিক মাকসুদ-উন-নবী ও ব্যারিস্টার কাজী জাওয়াদ বদরুদ্দোজা।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৩৫:৪৫ ৬৩ বার পঠিত