
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন চেষ্টা ঘিরে উত্তপ্ত দুই দেশের সীমান্ত। একের পর এক পুশইন চেষ্টা রুখে দিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), সজাগ স্থানীয়রাও। পুশইন একটি রাজনৈতিক ইস্যু, এর সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। দিল্লির সদিচ্ছা ছাড়া সীমান্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলেও মত তাদের।
দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ঘিরে উত্তপ্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। প্রতিদিন কোনো না কোনো এলাকা দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখে দিচ্ছে বিজিবি। সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে সজাগ স্থানীয়রাও।
এখন পর্যন্ত সীমান্তের অন্তত ২০টি পয়েন্টে দুইশোর বেশি মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বিএসএফ। এনিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একাধিকবার পতাকা বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। এমন প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে নজর ছিল সবার। তবে বৈঠক শেষে পুশইন ইস্যুতে মেলেনি কোনো বার্তা।
বিশ্লেষকরা বলছেন বিষয়টি রাজনৈতিক। সমাধান খুঁজতে হবে রাজনৈতিকভাবেই।
বিএসএফ ও বিজিবি বসে পুশইন চেষ্টার সমাধান করতে পারবে বলে আমার মনে হয় না, বললেন ড. ইমতিয়াজ আহমেদ
একান্ত সাক্ষাতকারে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ সময় সংবাদকে বলেন,
পুশইন চেষ্টা ঘিরে যে ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে বিশেষ করে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পরে, তার সমাধান আমার মনে হয় না, এ পক্ষে যারা বসেছে (বিএসএফ ও বিজিবি) তারা করতে পারবে। এটা রাজনৈতিক বিষয় এবং রাজনৈতিকভাবেই কোনো এক সময় হয়ত এর সমাধান হবে।
কেন্দ্রে এবং পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এখন বিজেপি তাই দিল্লির সদিচ্ছা ছাড়া পুশইন সমস্যার সমাধান দেখছেন না সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির।
আগে আমরা যেকোনো বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের ওপর ভরসা রাখতে পারতাম, এখন ভরসাটা দিল্লির ওপর রাখতে হবে, বললেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির।
তিনিও বলেন,
যেহেতু পশ্চিমবঙ্গে গত নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বা ক্ষমতায় আসার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ ঘটনাগুলো ঘটছে। এখানে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক উপাদান আছে। সম্ভবত এ রাজনৈতিক আলাপ আলোচনার ভেতর দিয়ে এটার সমাধান খুঁজতে হবে। ভারত সরকার যদি মনে করে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করাটা জরুরি এবং এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা উচিৎ তাহলে আমার ধারণা পশ্চিমবঙ্গ সরকার একা সেই কাজ করবে না বা করতে পারবে না। কাজেই এটার সিদ্ধান্তটা দিল্লিতে। আগে আমরা পশ্চিমবঙ্গের ওপর ভরসা রাখতে পারতাম, এখন ভরসাটা দিল্লির ওপর রাখতে হবে।
এবার বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকের পর প্রথাগতভাবে যৌথ বিবৃতি না দেয়ার বিষয়টিও ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে না বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
বাংলাদেশ সময়: ১২:৩৮:৫৭ ৭ বার পঠিত