
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় বুড়িগঙ্গা নদীর উপর নির্মিত রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নীচের মাটি অপসারণ করা হচ্ছে পূর্বের প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে। এতে ভায়াডাক্টের কোনো ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই এবং নির্মাণকারী সংস্থার সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তির শর্ত মোতাবেক এই মাটি অপসারণ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌ-পরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন আলীগঞ্জে০ বুড়িগঙ্গা নদীর উপর নির্মিত রেল সেতু সংলগ্ন ভায়াডাক্টের নীচের অংশ পরিদর্শণ শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে যে বুড়িগঙ্গা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নীচের মাটি স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র বিক্রি করে দিচ্ছে। এতে সেতুসহ ভায়াডাক্টের পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে এখানে মাটি বিক্রয় করা হচ্ছেনা বা ভায়াডাক্টের ক্ষতি হবার মতো কোনো হুমকি সৃষ্টি হয়নি।
প্রকল্পের শুরুতে যে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিদ্যমান ছিল প্রকল্প সমাপনান্তে অনুরূপ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তিবদ্ধ। তাছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে গড়া যে কোনো অস্থায়ী কাঠামো অপসারণে নির্মানকারী সংস্থা দায়বদ্ধ। এজন্য প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে মাটি অপসারণ না করলেও অন্যান্য অস্থায়ী অবকাঠামো অপসারণ সাপেক্ষে নির্মানকারী সংস্থাকে উক্ত বিল পরিশোধ করতে হবে যা প্রকল্পের সামগ্রিক ব্যয়ে প্রভাব ফেলবে।
নির্মাণকাজ শুরুর আগে ২০১৫ সাল পর্যন্ত উক্ত প্রকল্প এলাকা একটি স্থায়ী জলাশয় ছিলো যা ২০১৫ সালের স্যাটেলাইট চিত্র ও ওয়েটল্যান্ড সার্ভে থেকে প্রমাণিত। প্রকল্প সমাপনান্তে উক্ত জলাশয় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে অস্থায়ীভাবে ভরাটকৃত মাটি অপসারণ করা হচ্ছে।
উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অস্থায়ী এই মাটি অপসারণের কাজটি সুনির্দিষ্ট চেইনেজ অনুযায়ী করা হচ্ছে। মাটি কাটার গভীরতা গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট। সাড়ে পাঁচফুট মাটি অপসারণের পর যে ভূমিস্তর তৈরি হবে, সেখান থেকে পাইল ক্যাপের অবস্থান হবে ৮ (আট) ফুট নীচে। এই পাইল ক্যাপটি ৬ ফুট পুরু এবং এর ঠিক নিচেই ভায়াডাক্টের মূল ভিত্তি হিসেবে প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ ৮টি পাইল মাটির গভীরে প্রোথিত আছে, যা কাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। আলোচিত মাটি অপসারণে ভায়াডাক্টের ক্ষতি হবার কোনো সম্ভাবনা নেই। এক্ষেত্রে উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার এবং প্রকৃত ঘটনা গণমাধ্যমে প্রচারের জন্য তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান এবং এ ব্যাপারে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা কামনা করেন। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব হাবিবুর রশিদ এমপি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো: ফাহিমুল ইসলাম, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে ও পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:০৩:২৬ ৮ বার পঠিত