বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করি -সুমাইয়া আক্তার

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করি -সুমাইয়া আক্তার
বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬



পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করি -সুমাইয়া আক্তার

“দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর, লও যত লৌহ লোষ্ট্র কাষ্ঠ ও প্রস্তর
হে নবসভ্যতা! হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী, দাও সেই তপোবন পুণ্যচ্ছায়ারাশি…”

শতবর্ষ আগে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা কবিতা আজও অস্বীকার করবার উপায় নেই। বহুবছর আগে যান্ত্রিক সভ্যতা পরিবেশ ও প্রকৃতির সুরক্ষা করেই মানুষের জীবনের সাথে জড়িয়ে ছিলো। বর্তমান যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে আমাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর জন্য দিনের শুরুতে কার্বন নিঃসরণ দিয়ে ঘুমোতে যাবার আগ পর্যন্ত সেটি বহাল রেখে পরের দিনটি শুরু
হয়। মানব সভ্যতার উন্নতির বিপরীতে আমরা ধ্বসং করছি আমাদের প্রজন্মের সোনালী ভবিষ্যত যা হয়তো কিছুদিনের মধ্যে আমাদের কঠিন ভাবনায় ফেলবে।

পরিবেশ ও প্রকৃতিকে রক্ষার জন্য আমাদের কিছু দায়িত্ব, সচেতনতাবোধ থাকতে হবে। আমাদের প্রয়োজনে প্রকৃতি সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে। একবার ভাবুনতো, যে পরিবেশ ও প্রকৃতি আমাদের সবই উজার করে দিয়েছে সেটি রক্ষায় আমরা কি করছি? কেন করছি না ? আমাদের এখনি সচেতন হতে হবে। প্রয়োজনের বাইরে পরিবেশের সামান্যতম ক্ষতি করা যাবে না।
প্রজন্মকে বোঝাতে ও শেখাতে হবে কী করে নিজের বাঁচার তাগিদে পরিবেশ ও প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হবে। অধিকাংশের খুবই বাজে স্বভাব হলো দাঁত ব্রাশ কিংবা গোসলের সময় পানির অপচয় করা, ম্যাচের কাঠির খরচ বাঁচাতে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখা ও কাপড় শুকানোর জন্য গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখা, কিংবা অযথা লাইট, ফ্যান, এসি চালু রাখা। সম্পদের এই যথেচ্ছা ব্যবহার
পরিবেশের ক্ষতি করে।

পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় আমরা নিজেরা ছোট ছোট কিছু পদক্ষেপ নিতে পারি। যেমন- প্ল্যাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার না করে পাটের ব্যাগ অথবা কাপড়ের ব্যাগ (ধুঁয়ে পরিস্কার করে কয়েকবার) ব্যবহার করা, প্রয়োজনে গাছ কাটা পড়লে একটির বিপরীতে ৫টি করে গাছ লাগানো,প্রয়োজনের বাইর একমিনিটও বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানিসহ প্রাকৃতিক সম্পদ অপচয় না করা, যান্ত্রিক পরিবহন এড়িয়ে ট্রেন, ইলেকট্রিক যানবাহন, বাইসাইকেলের ব্যবহার বাড়ানোসহ

অল্প দূরত্বে হেঁটে চলার অভ্যাস গড়ে তোলা ইত্যাদি। এসবের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার কাজ এক্ষুনি শুরু করতে হবে। আমাদের নিজস্ব দায়বদ্ধতা থেকে পরিবেশ ও প্রকৃতিকে রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। বৈশ্বিক উষ্ণতা থেকে আমরা খুব সহজেই কিছুটা হলেও আমাদের বাসযোপ্য পৃথিবীকে বাঁচাতে পারি। আমরা পরিবেশ দূষণে প্রতিদিন যে ভুলগুলো করি সেখান থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে, আসার মানষিকতা তৈরি করতে হবে। সুনাগরিকের গুনাবলীর মধ্যে অন্যতম হলো পরিবেশের সৌন্দর্য্য
বৃদ্ধি করা এবং পরিবেশ রক্ষায় অন্যকে উৎসাহিক করা। আমাদের ছোটখাটো ভুলগুলো ছুড়ে ফেললে পৃথিবী এবংপ্রকৃতি আরো সুন্দর হবে।  গাছ আমাদের পরম বন্ধু। আমাদের বাঁচার জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন। অক্সিজেনের ভান্ডার হলো প্রকৃতির গাছপালা। ইট পাথরের নগরীতে গাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। প্রকৃতিকে বাঁচাতে, যত্ন নিতে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। গাছের যত্ন নিতে হবে। আমাদের অনেক প্রয়োজনেই গাছ কাটতে হয়, কিন্তু একটা গাছ কাটলে যে ঘাটতি হবে তা অপূরণীয়। তাই এর বিপরীতে বেশি করে গাছ লাগাতেও হবে। বৃক্ষরোপণ অভিযানে তরুণ সমাজকে নেতৃত্ব দিতে হবে।

একদিকে পৃথিবীর অগণিত মানুষ সুপেয় পানির অভাবে হাহাকার করছে, অন্যদিকে আরেকদল অবিবেচক মানুষ পানির অপচয় করেই যাচ্ছে। প্রকৃতির আশীর্বাদ এভাবেই ধ্বংস করে ফেলছি আমরা। এতে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদগুলো কেবল বিনষ্টই হচ্ছে।এগুলো প্রয়োজনের বাইরে ব্যবহার করবেন না। এতে করে সম্পদের যেমন সাশ্রয় হবে, ঠিক তেমনই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে।

এগুলো ছাড়াও যত্রতত্র ময়লা, মানববর্জ্য, প্রাণীবর্জ্য, কেমিক্যাল বর্জ্য, ইলেকট্রনিক বর্জ্য, হাসপাতালের বর্জ্য ফেলা, পলিথিন বা অপচনশীল পণ্য-বর্জ্য পুড়িয়ে কালো ধোঁয়া ছড়ানো, প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় করা- এসব কাজ পরিবেশ ও প্রকৃতিবিরুদ্ধ। যে
প্রকৃতি তার সমস্ত রত্নভান্ডার উজাড় করে আমাদের সকল প্রয়োজন পূর্ণ করেছে আমরা কী তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসবোনা ? তাই মানুষ হিসেবে অন্তত: আমাদেরও উচিৎ প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। এতে পরিবেশ, প্রকৃতি ও প্রাণ সবই রক্ষা পাবে।

লেখক: বিএসএস (সম্মান), এমএসএস (অর্থনীতি), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:১৯:৪১   ১৫ বার পঠিত