
চলমান জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে পরিবেশ রক্ষা ও তার উন্নতির লক্ষ্যে অধিক সংখ্যক বৃক্ষরোপণ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার নগরীর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক র্যালি-পরবর্তী আলোচনা সভায় বক্তারা এই মতামত ব্যক্ত করেন।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে এই আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য র্যালি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করে।
রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম।
পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক নূর আলম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
জাতীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে পরিবেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে, আরও বেশি বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ ও বন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং অধিকসংখ্যক বৃক্ষরোপণ করতে হবে।’
পরিবেশ দূষণের জন্য উন্নত দেশগুলোতে শিল্পায়ন এবং অতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন তুলনামূলকভাবে বেশি দায়ী। এর ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে এবং বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে।
অবৈধ ইটভাটা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি পরিবেশ ও কৃষির জন্য একটি গুরুতর হুমকি।
ইট উৎপাদনের জন্য কৃষি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি তুলে ফেলার কারণে উর্বর জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, জীবন, জীবিকা এবং বাস্তুতন্ত্রের জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি হয়ে ওঠা পরিবেশ দূষণ কমাতে প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার ত্যাগ করা এবং আরও বেশি করে গাছ লাগানো অপরিহার্য।
অবিবেচনাপ্রসূত বন উজাড়, পরিবেশ দূষণ এবং শিল্পে পলিথিন ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার পরিবেশ দূষণের কারণ হচ্ছে এবং দিন দিন বাসযোগ্য বিশ্বকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে।
পরিবেশ রক্ষায় তারা সবুজ শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং প্লাস্টিকের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
পরে, দিবসটি উপলক্ষেত শিশু ও শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে প্রধান অতিথি পুরস্কার বিতরণ করেন।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:১২:৩৮ ৮ বার পঠিত