
ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে টানা সপ্তম রাতের মতো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক সরবরাহ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে।
সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইস্টার্ন টাইম রাত ৯টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে) হামলা শেষ হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘সর্বাধিনায়কের (প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প) নির্দেশে সেন্টকম ইরানকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করার পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর রেখেছে।’
সেন্টকমের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং আঞ্চলিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত অবকাঠামো ধ্বংস করা।
ইরানি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল দক্ষিণাঞ্চলের জাস্ক, সিরিক, বুশেহর ও বন্দর আব্বাস শহর। এছাড়া কেশম দ্বীপ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আহভাজ এবং মধ্যাঞ্চলের ইয়াজদ শহরেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশে চালানো হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। প্রদেশটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটা হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
হামলার পর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নিহতদের পরিচয় বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করেনি ইরানি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এতে দেখা যায়, ইউএসএস বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট জাহাজ থেকে মেরিন কোরের এফ-৩৫বি লাইটনিং-টু যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করছে। তবে অভিযানের সময় যুদ্ধজাহাজটি কোথায় অবস্থান করছিল, সে-বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পেন্টাগন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের ওপর নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি মোজতবার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মোহসেন রেজাঈ। বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আরও দুই থেকে তিন দিন হামলা চালিয়ে গেলে ‘পূর্ণমাত্রার আক্রমণাত্মক পর্যায়ে’ প্রবেশ করবে ইরান। তখন শুধু পাল্টা হামলাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না তেহরান। আক্রমণ থেকে কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই নিরাপদ থাকবে না।
ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জাতিসংঘের ভাষ্য, এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই; সংলাপ ও কূটনীতিই একমাত্র পথ। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল এবং আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১২:১৯:৫৮ ৪ বার পঠিত