পর্তুগালের পার্লামেন্টে ‘বোরকা বিল’ পাস, প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষা

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » পর্তুগালের পার্লামেন্টে ‘বোরকা বিল’ পাস, প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষা
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬



পর্তুগালের পার্লামেন্টে ‘বোরকা বিল’ পাস, প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষা

পর্তুগালের পার্লামেন্টে জনপরিসরে মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী বহুল আলোচিত ‘বোরকা বিল’ চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পেয়েছে।

শুক্রবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থী জোট, ডানপন্থী ও কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর সমর্থনে বিলটি পাস হয়। এখন এটি আইনে পরিণত হওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট চাইলে বিলে স্বাক্ষর করতে, ভেটো দিতে অথবা সাংবিধানিক আদালতে পাঠিয়ে এর সাংবিধানিক বৈধতা যাচাইয়ের আবেদন করতে পারবেন।

বিলটি প্রথম উত্থাপন করে কট্টর ডানপন্থী দল শেগা। ২০২৫ সালের অক্টোবরে সংসদে এর নীতিগত অনুমোদন মিললেও পরে এটি সংসদীয় কমিটিতে দীর্ঘ সময় আটকে ছিল।

চলতি বছরের জুনে ক্ষমতাসীন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (পিএসডি) সংশোধিত খসড়া আনে, যেখানে ধর্মীয় পোশাককে সরাসরি লক্ষ্য না করে জননিরাপত্তা ও পরিচয় শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয়তাকে মূল যুক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়। সেই সংশোধিত সংস্করণই এবার সংসদে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

নতুন আইনে জনসমক্ষে এমন পোশাক বা আবরণ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা মুখ পুরোপুরি ঢেকে দেয় এবং পরিচয় শনাক্তে বাধা সৃষ্টি করে। এর আওতায় বোরকা ও নিকাব কার্যত নিষিদ্ধ হবে। তবে স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন, পেশাগত নিরাপত্তা, ধর্মীয় উপাসনালয়, কূটনৈতিক স্থাপনা, বিমান ভ্রমণসহ কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মুখ ঢাকার অনুমতি থাকবে।

আইনে অবহেলাজনিত অপরাধে ২০০ থেকে ২,০০০ ইউরো এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভঙ্গ করলে ৪০০ থেকে ৪,০০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া কাউকে জোরপূর্বক মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করলে আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে। সংশোধিত খসড়ায় জরিমানার অঙ্ক নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হলেও সর্বশেষ অনুমোদিত পাঠে এই সীমাই বহাল রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

বিলটি অনুমোদনের পর পর্তুগালে বসবাসরত মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, আইনটি কার্যত মুসলিম নারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করবে এবং সামাজিক বৈষম্য বাড়াবে।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও বলেছে, আইনটি ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত পোশাকের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হতে পারে। সংস্থাটি প্রেসিডেন্টকে বিলে স্বাক্ষর না করে সাংবিধানিক পর্যালোচনার জন্য পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে বিলটির সমর্থকদের দাবি, এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে লক্ষ্য করে নয়; বরং জননিরাপত্তা, পরিচয় যাচাই এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। তাদের মতে, জনপরিসরে সবার মুখ দৃশ্যমান থাকা নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয়।

প্রেসিডেন্টের অনুমোদন পেলে পর্তুগাল ফ্রান্স, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক ও সুইজারল্যান্ডের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর কাতারে যোগ দেবে, যেখানে জনপরিসরে সম্পূর্ণ মুখ ঢেকে রাখার ওপর বিভিন্ন মাত্রার নিষেধাজ্ঞা ইতোমধ্যেই কার্যকর রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১১:৩৮:১৪   ২ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আন্তর্জাতিক’র আরও খবর


টানা সপ্তম রাতে ইরানে মার্কিন হামলা, নিহত ৩
মধ্যপ্রাচ্যে ‘নতুন যুদ্ধ’, জড়াতে পারে পাকিস্তানও
পর্তুগালের পার্লামেন্টে ‘বোরকা বিল’ পাস, প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষা
প্রথমবারের মতো সিরিয়ায় ইরানের হামলা, মার্কিন কমান্ড সেন্টার ধ্বংসের দাবি
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ফ্রান্সে উত্তেজনা, গ্রেফতার কমপক্ষে ১৬০
চুক্তি না হলে আগামী সপ্তাহে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের
সাইবার হামলার জেরে রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করল জার্মানি
ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অক্টোবরে, বড় পরীক্ষার মুখে নেতানিয়াহু
ইরানে নতুন করে বিস্ফোরণ, হামলার কথা অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের
চীনে কারখানায় আগুন, নিহত ২৮

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ