
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত উপজেলা প্রশাসন গোল্ডকাপ-২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে।
পরে রেফারিদের লিখিত সিদ্ধান্তে ওয়াকওভারের মাধ্যমে মাসুদ হোসেন মুন্সীর নেতৃত্বাধীন আলফাডাঙ্গা পৌরসভা-২ ফুটবল একাদশকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। সোমবার রাত প্রায় ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে অধিনায়ক মাসুদ হোসেন মুন্সীর নেতৃত্বে পৌরসভা-২ ফুটবল একাদশ মাঠে উপস্থিত হয়ে খেলায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকলেও, অভিযোগ অনুযায়ী অধিনায়ক রিপন সিকদারের নেতৃত্বাধীন পৌরসভা-১ (নবাব শাহা) ফুটবল একাদশ নির্ধারিত সময়ে মাঠে উপস্থিত হয়নি। নির্ধারিত অপেক্ষার সময় শেষ হলেও দলটি মাঠে না আসায় ম্যাচটি শুরু করা সম্ভব হয়নি।
পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৈরী আবহাওয়ার কারণ দেখিয়ে ম্যাচ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হলে পৌরসভা-২ দলের খেলোয়াড়, সমর্থক ও দর্শকদের একাংশ বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং আলফাডাঙ্গা পৌর সদর বাজারের চৌরাস্তা মোড় অবরোধ করেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
একাধিক স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রভাবেই নির্ধারিত দিনে ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন বা টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক কোনো কারণের কথা জানানো হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস বলেন, “প্রথমে তাদের জানানো হয়েছিল সরকার কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান উপস্থিত থাকবেন। পরে তাকে আসতে না পারার কথা জানিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে প্রধান অতিথি করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের না জানিয়েই প্রধান অতিথি হিসেবে সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. ইলিয়াস মোল্লাকে নির্ধারণ করা হয়। এ কারণেই তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। তবে বর্তমান সংসদ সদস্যকে প্রধান অতিথি করায় তাদের আপত্তি ছিল না; আপত্তি ছিল সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয়টি না জানানোর বিষয়ে।”
তিনি আরও বলেন, আমি খেলোয়াড়দের মাঠে যেতে নিষেধ করিনি; বরং আমি না যাওয়ার কথা বললে খেলোয়াড়রাই মাঠে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এস. এম. হাফিজুর রহমান বলেন, খেলার আয়োজন করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রফেসর ড. ইলিয়াস মোল্লাকে প্রধান অতিথি করা হয়েছিল। বিএনপির নেতাকর্মীরা কেন অনুষ্ঠানে অংশ নেননি, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।
পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত রেফারিদের স্বাক্ষরিত সিদ্ধান্তে জানানো হয়, টুর্নামেন্ট পরিচালনা বিধিমালা এবং IFAB Laws of the Game অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কোনো দল মাঠে উপস্থিত না হলে বা প্রয়োজনীয় সংখ্যক খেলোয়াড় না থাকলে অনুপস্থিত দলকে ওয়াকওভার দিয়ে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। সে অনুযায়ী মাসুদ হোসেন মুন্সীর নেতৃত্বাধীন আলফাডাঙ্গা পৌরসভা-২ ফুটবল একাদশকে ফাইনাল ম্যাচের বিজয়ী ও টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।
রেফারিদের স্বাক্ষরিত সিদ্ধান্তপত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত রেফারি সাইফ দোহা সাইফ, রাসেল ও হুমাইরার নাম উল্লেখ রয়েছে।
সোমবার রাত প্রায় ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক মাসুদ হোসেন মুন্সীর হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, নির্ধারিত সময়ে একটি দল মাঠে উপস্থিত না হওয়ায় খেলা স্থগিত করা হয়। পরে ফুটবল খেলার প্রচলিত নিয়ম এবং রেফারিদের লিখিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে উপস্থিত দলকে বিজয়ী ঘোষণা করে ট্রফি প্রদান করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১১:৫৩:৫৫ ৫ বার পঠিত