
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দায়িত্ব নিয়েই সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের ঘনিষ্ঠদের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দিয়েছেন। একই সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ১০ বছরের পরিকল্পনার ঘোষণা দেন এবং বামঘেঁষা নীতির ইঙ্গিত দেন।
সোমবার ডাউনিং স্ট্রিটে স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পরই তিনি কাজে নেমে পড়েন। প্রথমেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে পৃথকভাবে টেলিফোনে কথা বলেন। এরপর তিনি নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন। লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
৫৬ বছর বয়সী বার্নহাম ব্রিটেনে পুনরায় শিল্পায়ন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং সড়কে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর অবসান ঘটানোর অঙ্গীকার করেন। স্টারমারের বিদায়ের পর বাকিংহাম প্রাসাদে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০২২ সালে সিংহাসনে আরোহণের পর চার্লসের এটি চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী। আর এক দশকের কিছু বেশি সময়ে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হলেন বার্নহাম। তিনি বলেন, বিশ্বকে দেখাতে হবে যে ব্রিটেন আবারও ‘স্থিতিশীলতা ফিরে পেতে’ সক্ষম।
স্ত্রী মেরি-ফ্রান্স ভ্যান হিলকে সঙ্গে নিয়ে ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছালে সমর্থকদের করতালিতে তাকে স্বাগত জানানো হয়। উপস্থিত ছিলেন তার মাও।
১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি ‘নতুন রাজনৈতিক মডেল’ গড়ে তোলা এবং ‘নতুন অর্থনীতি’ নির্মাণের অঙ্গীকার করেন।
যুক্তরাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম ফোনালাপে বার্নহাম প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রতি নিজের ‘অঙ্গীকার’ পুনর্ব্যক্ত করেন।
ট্রাম্প বলেন, বার্নহামের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। দুই নেতা ‘খুব শিগগিরই’ সাক্ষাৎ করবেন বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘তার সামনে বড় দায়িত্ব রয়েছে। তবে তিনি তা পালন করতে পারবেন। আর অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র তাকে সহায়তা করবে।’ তিনি জানান, আলোচনায় বাণিজ্য, সামরিক সহযোগিতা এবং হরমুজ প্রণালীর মাইন অপসারণের বিষয় উঠে এসেছে।
ডাউনিং স্ট্রিট জানায়, জেলেনস্কির সঙ্গে আলাপেও বার্নহাম ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের ‘অটল প্রতিশ্রুতি’ পুনর্ব্যক্ত করেন। রাশিয়ার হামলার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় এ সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
নতুন সরকারের ওপর নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেন। স্টারমারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন র্যাচেল রিভস ও ডেভিড ল্যামি। কয়েকজন মন্ত্রীকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের পদোন্নতি দেওয়া হয়।
-শক্তিশালী ও আরও ন্যায্য ব্রিটেনের অঙ্গীকার-
সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি নতুন অর্থমন্ত্রী হয়েছেন। এড মিলিব্যান্ডকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে। বামপন্থী নেত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার আবারও সরকারে ফিরেছেন।
লেবার পার্টির নেতৃত্বের দৌড়ে বার্নহামের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়ানো ওয়েস স্ট্রিটিংকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের আশ্রয়প্রার্থী-সংক্রান্ত কঠোর সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে শাবানা মাহমুদকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত ভাষণে বার্নহাম বলেন, তিনি ‘ব্রিটেনের জন্য নতুন একটি পরিকল্পনা, ১০ বছরের পরিকল্পনা’ সামনে আনবেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
স্টারমারও লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের হাতে গত মাসে নেতৃত্ব হারানোর আগে ‘জাতীয় পুনর্গঠনের এক দশক’ গড়ার কথা বলেছিলেন।
বার্নহাম বলেন, তিনি ‘মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দেবেন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় সহায়তা করবেন।’ এ বিষয়ে মঙ্গলবার থেকেই তিনি ঘোষণা দেওয়া শুরু করবেন বলেও জানান।
এর আগে স্টারমার স্ত্রীকে নিয়ে ডাউনিং স্ট্রিট ত্যাগ করেন। তিনি দাবি করেন, তার দুই বছরের শাসনামলে ব্রিটেন ‘আরও শক্তিশালী ও আরও পক্ষপাতহীন’ হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৩:৫৪:৩৬ ৫ বার পঠিত