
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মাদারগঞ্জে চলন্ত সিএনজিতে টাকার বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্কের পর উল্টো ধর্ষণের নাটক সাজিয়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিরিনা নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। ভুয়া মামলা ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে ২ মাস জেল খাটার পর অবশেষে জামিনে মুক্ত হয়ে আপোষ করতে বাধ্য হয়েছেন ভুক্তভোগী তিন যুবক। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় সচেতন মহল যুবসমাজকে এই প্রতারক চক্র থেকে সাবধান থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে, মাদারগঞ্জের শ্যামগঞ্জ-জামালপুর সড়কে। জানা যায়, চরলোটাবর এলাকার যুবক জানিক ও হৃদয় এবং সিএনজি চালক সুজনের সাথে টাকার বিনিময়ে স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন শিরিনা। সম্পর্কের সময় যুবকরা মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন, যেখানে শিরিনাকে স্বেচ্ছায় ও হাসিমুখে অংশ নিতে দেখা যায়।
তবে পরবর্তীতে টাকার ভাগাভাগি ও বনিবনা না হওয়ায় রূপ বদল করেন শিরিনা। ধারণকৃত ভিডিও থাকার পরও তিনি উল্টো সংবাদ সম্মেলন ডেকে জানিক, হৃদয় ও চালক সুজনের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনের পর শিরিনা আদালতে তিন যুবকের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করলে দীর্ঘ ২ মাস তারা জেল খাটেন। পরবর্তীতে জামিনে বের হয়ে আইনি হয়রানি ও মান-সম্মানের ভয়ে শিরিনার পাতিয়া রাখা ফাঁদে পা দিতে বাধ্য হন ভুক্তভোগীরা। সাড়ে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে শিরিনার সাথে আপোষনামা স্বাক্ষর করে সাময়িকভাবে রেহাই পান তারা।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিরিনা মূলত একজন পেশাদার প্রতারক। তিনি নারীবিরোধী আইনের অপব্যবহার করে নিরীহ যুবকদের ফাঁদে ফেলে অর্থ আত্মসাৎ করাই তার মূল পেশা।
এলাকার সচেতন মহল ও যুব সমাজকে এই ধরনের প্রতারক ও ব্ল্যাকমেইলার চক্রের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে এই চক্রের মূল হোতা শিরিনাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
বাংলাদেশ সময়: ১১:৩৩:১৮ ৬ বার পঠিত