
বিশ্বকাপে একের পর এক প্রতিপক্ষকে নিয়ে ছেলেখেলা করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিলেন মেসি, আর্জেন্টিনাও পারেনি লড়াই করতে। যার খেসারত দিতে হয়েছে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ খুইয়ে। নিজের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন এই মহাতারকা। সেই হতাশা ঝেড়ে ফেলে ক্লাবের হয়ে খেলতে নেমেই চেনা রূপে হাজির মেসি। জোড়া গোলে রাঙালেন প্রত্যাবর্তন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) লিগস কাপের ম্যাচে মেক্সিকান ক্লাব সান লুইসকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর এই ম্যাচ দিয়েই আবারও মাঠে ফিরেছেন মায়ামির অধিনায়ক মেসি। বিশ্রাম কাটিয়ে ফুরফুরে মেজাজে খেলতে নামা আর্জেন্টাইন মহাতারকা বিশ্বকাপের সেই দুর্দান্ত ফর্ম টেনে এনেছেন ক্লাবেও। করেছেন জোড়া গোল।
প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করেন মেসি। মায়ামির বাকি গোল দুটিও আসে প্রথমার্ধেই। গোল করেন তেলাসকো সেগোভিয়া এবং মিকায়েল।
সান লুইসের পক্ষে ডেভিড রদ্রিগেজ এবং রাফা লরেন্তে গোল করেন।
এই ম্যাচে জোড়া গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে মেসি লিগস কাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছেন। ২০২৩ সালের চ্যাম্পিয়ন এবং ২০২৫ সালের রানার্সআপ ইন্টার মায়ামি এবারও শিরোপার দৌড় দারুণভাবে শুরু করল।
এদিন রদ্রিগেজের গোলে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুত সমতায় ফেরান মেসি। ১১তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ভলিতে গোল করে তিনি ডেনিশ বৌয়াঙ্গার লিগস কাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে (১৩ গোল) ভাগ বসান।
অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ গুইলের্মে হয়োস বলেন, ‘এটি ছিল অত্যন্ত পরিশ্রমসাপেক্ষ একটি ম্যাচ। দুই দলই বল দখলে রাখার চেষ্টা করেছে। মাঠের অবস্থা কঠিন ছিল, আর্দ্রতা ও গরমও আমাদের ভুগিয়েছে। তবে ফলাফল নিয়ে আমরা খুবই খুশি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ম্যাচে যারা নিজেদের সেরাটা দিয়েছে, সবাইকে অভিনন্দন। দলের প্রচেষ্টার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এই জয় আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
মেসির প্রথম গোল সম্পর্কে হোয়োস বলেন, ‘ছেলেরা আমাকে গোলটি দেখিয়েছে। শটটি নেওয়া ছিল ভীষণ কঠিন। ফুটবল যারা খেলেছে, তারা জানে এমন নিখুঁত সময় ও অবস্থান তৈরি করা কতটা কঠিন। বাম দিক থেকে আসা বলকে ডানদিকে নিয়ন্ত্রণ করে সেইভাবে জালে পাঠানো সত্যিই অসাধারণ।’
তিনি যোগ করেন, ‘যদি আমরা চিত্রকলার সঙ্গে তুলনা করি, তাহলে আমি তাকে পিকাসো বলব।’
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে আবারও নোয়া অ্যালেনের পাস থেকে কাছ থেকে জোরালো শটে নিজের ১৪তম লিগস কাপ গোল করেন মেসি, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের জয়সূচক গোল হয়ে থাকে। এরপর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে কর্নার থেকে মিকায়েলের গোলেও অ্যাসিস্ট করেন তিনি। ফলে বিরতিতে যাওয়ার আগেই ম্যাচ অনেকটাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় ইন্টার মায়ামি।
মেসি অসাধারণ নৈপুণ্য না থাকলে এই ম্যাচে সেরার পুরস্কারের দাবিদার হতে পারতেন ২২ বছর বয়সী মায়ামির হোমগ্রোন ডিফেন্ডার নোয়া অ্যালেন। মেসির দুই গোলেই অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি তিনি আরেকটি অ্যাসিস্ট করেন সেগোভিয়ার গোলে। অর্থাৎ ম্যাচে তিনটি অ্যাসিস্টের কৃতিত্ব গড়েন অ্যালেন।
হোয়োস বলেন, ‘আমি তাকে অভিনন্দন জানাই। সে দারুণ খেলেছে। ডিপে ঢুকে সময়মতো বল ছেড়েছে, যা করা খুব কঠিন। বিশেষ করে প্রথম অ্যাসিস্টটি ছিল অসাধারণ, সেটিও উদযাপনের মতো একটি মুহূর্ত।’
ইন্টার মায়ামি নিজেদের মাঠ নু স্টেডিয়ামে তাদের পরবর্তী লিগস কাপ ম্যাচে মেক্সিকোর শক্তিশালী ক্লাব মন্তেরের মুখোমুখি হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১১:৪৮:০৯ ৬ বার পঠিত