বলিউডে কেন বারবার ফিরে আসে দেশভাগের গল্প

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » বলিউডে কেন বারবার ফিরে আসে দেশভাগের গল্প
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬



বলিউডে কেন বারবার ফিরে আসে দেশভাগের গল্প

‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ আজ বৃহস্পতিবার মুক্তি পাচ্ছে। এর আগে ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ও নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে ১৯৪৭-এর ক্ষত। ‘গরম হাওয়া’, ‘তমস’, ‘ট্রেন টু পাকিস্তান’, ‘আর্থ’, ‘পিঞ্জর’থেকে ‘গদর’—বারবার কেন ফিরে আসে দেশভাগের গল্প? শুধু ইতিহাসের টান, নাকি এই ক্ষত এখনো বর্তমান?

দেশভাগের গল্প বলিউডে নতুন কিছু নয়; বরং বলা যায়, ১৯৪৭ ভারতীয় উপমহাদেশের সেই ইতিহাস, যার কাছে হিন্দি সিনেমা বারবার ফিরে আসে। কখনো প্রেমের গল্প হয়ে, কখনো পরিবারের বিচ্ছেদের কাহিনি হয়ে, কখনো রাজনৈতিক সহিংসতার নির্মম দলিল হয়ে, আবার কখনো জাতীয়তাবাদী আবেগের বড় প্রদর্শনী।
এই তালিকায় এবার যুক্ত হচ্ছে ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’। রাজকুমার সন্তোষীর পরিচালনায় ছবিটিতে অভিনয় করেছেন সানি দেওল, প্রীতি জিনতা, শাবানা আজমি, করন দেওল, আলী ফজল ও অভিমন্যু সিং। আমির খান প্রযোজিত ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে।

ছবির কেন্দ্রে দেশভাগের সময়ের লাহোর। দেশভাগের পর একটি মুসলিম পরিবার একটি পুরোনো হাভেলিতে এসে ওঠে। কিন্তু সেখানে থেকে গেছেন এক বৃদ্ধ হিন্দু নারী, যিনি বাড়িটিকে নিজের পূর্বপুরুষের সম্পত্তি বলে দাবি করেন। দুই পরিবারের এই সংঘাত ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে দেশভাগের বৃহত্তর বাস্তবতার প্রতীক—একই ঘর, অথচ বদলে গেছে পরিচয়, অধিকার ও সম্পর্কের অর্থ।

প্রীতি জিনতার জন্যও ছবিটি বিশেষ। দীর্ঘ বিরতির পর পর্দায় ফিরেছেন তিনি। ছবিতে তাঁর চরিত্র হামিদা, একজন গৃহবধূ, দেশভাগের ভয়াবহতার মধ্যে যাকে পরিবার ও সন্তানদের রক্ষার লড়াই করতে হয়। অভিনেত্রী বলেছেন, সেই সময়ের নারীদের সামনে নিজের জীবন বেছে নেওয়ার সুযোগই ছিল খুব সীমিত।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, ৭৯ বছর আগের একটি ঘটনা নিয়ে বলিউড এতবার ছবি বানায় কেন?
যে ইতিহাস এখনো শেষ হয়নি

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভাগ হয়ে ভারত ও পাকিস্তান তৈরি হওয়ার সময় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অভিবাসনগুলোর একটি ঘটে। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, এক কোটির বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে সীমান্ত পেরিয়েছিলেন; সহিংসতায় প্রাণ হারান আনুমানিক ১০ লাখ বা তারও বেশি মানুষ। অসংখ্য পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়, বদলে যায় প্রজন্মের পর প্রজন্মের পরিচয় ও বসতভিটা।

এই কারণেই দেশভাগ কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়। এটি ব্যক্তিগত স্মৃতি। কারও দাদার ফেলে আসা বাড়ি, কারও নানির বলা ট্রেনের গল্প, কারও হারিয়ে যাওয়া আত্মীয়, কারও জন্মভূমির নাম—সবকিছু মিলিয়ে দেশভাগ ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের পারিবারিক স্মৃতির অংশ হয়ে আছে। দেশভাগের গল্পে ইতিহাস আছে, আবার ঘরসংসারও আছে। রাজনীতি আছে, আবার প্রেমও আছে। মৃত্যু আছে, আবার ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও আছে।

শুরুটা ‘গরম হাওয়া’ দিয়ে
দেশভাগ নিয়ে হিন্দি সিনেমার আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামগুলোর একটি ‘গরম হাওয়া’। এম এস সত্যুর ১৯৭৩ সালের এই ছবি দেশভাগের পর ভারতে থেকে যাওয়া এক মুসলিম পরিবারের চোখ দিয়ে দেখেছিল ইতিহাসকে। বলরাজ সাহনির অভিনয়ে সালিম মির্জা হয়ে ওঠেন এমন একজন মানুষ, যিনি দেশভাগের পরও নিজের জন্মভূমি ছেড়ে যেতে চান না। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা, সামাজিক সন্দেহ, অর্থনৈতিক সংকট—সবকিছু মিলে ধীরে ধীরে তাঁর চারপাশের পৃথিবী বদলে যায়।
‘গরম হাওয়া’র বড় শক্তি ছিল, দেশভাগকে কেবল ভারত বনাম পাকিস্তানের গল্প না বানিয়ে মানুষের ওপর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব হিসেবে দেখা। পরিচালক সত্যুর উদ্দেশ্যও ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মানবিক মূল্য দেখানো।

‘তমস’: অন্ধকারের ভেতর মানুষ
ভীসম সাহনির উপন্যাস অবলম্বনে গোবিন্দ নিহালনির ‘তমস’ ১৯৮০-এর দশকে দেশভাগের আরেক নির্মম চিত্র হাজির করেছিল। টেলিভিশনের জন্য নির্মিত এই কাজ দেখিয়েছিল, কীভাবে গুজব, রাজনৈতিক উসকানি ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ খুব অল্প সময়ের মধ্যে পাশাপাশি থাকা মানুষকে পরস্পরের শত্রুতে পরিণত করতে পারে।
‘তমস’ দেশভাগকে শুধু সীমান্ত আঁকার ঘটনা হিসেবে না দেখে এটি দেখেছিল সাম্প্রদায়িক মনস্তত্ত্বের বিস্ফোরণ হিসেবে।

‘ট্রেন টু পাকিস্তান’: একটি গ্রামের গল্পে পুরো দেশভাগ
খুশবন্ত সিংয়ের একই নামের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে পামেলা রুকসের ১৯৯৮ সালের ছবিটি দেশভাগের আরেক উল্লেখযোগ্য কাজ। গল্পের কেন্দ্র পাঞ্জাবের সীমান্তবর্তী কাল্পনিক গ্রাম মানো মাজরা। সেখানে শিখ ও মুসলিমরা দীর্ঘদিন পাশাপাশি বসবাস করে। কিন্তু ১৯৪৭-এর রাজনৈতিক উত্তেজনা একসময় সেই স্বাভাবিক জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। একটি ট্রেন এসে যেন পুরো গ্রামের ভাগ্য বদলে দেয়।
ছবিটি দেশভাগের বিপুল ইতিহাসকে একটি ছোট গ্রামের মানুষের সম্পর্কের মধ্যে নামিয়ে আনে। প্রেম, বন্ধুত্ব, বিশ্বাস—সবকিছুর ওপর রাজনৈতিক বিভাজনের ছায়া পড়ে।

‘আর্থ’: প্রেমের গল্প যখন ঘৃণার গল্প হয়ে যায়
দীপা মেহতার ‘১৯৪৭: আর্থ’ দেশভাগকে আরও ব্যক্তিগত জায়গায় নিয়ে যায়। বাপসি সিধওয়ার উপন্যাস ‘ক্র্যাকিং ইন্ডিয়া’ অবলম্বনে নির্মিত ছবিতে একটি শিশুর চোখ দিয়ে দেখা হয় কীভাবে রাজনৈতিক বিভাজন ধীরে ধীরে মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বন্ধুত্বকে ভেঙে দেয়।

আমির খান, নন্দিতা দাস ও রাহুল খান্না অভিনীত ছবিটি দেখায় যে মানুষগুলো একসঙ্গে হাসত, আড্ডা দিত, প্রেম করত; তারাই কীভাবে পরিচয়ের রাজনীতির কারণে বদলে যেতে পারে।

ছবিটির ২৫ বছরের বেশি সময় পরও নন্দিতা দাস বলেছিলেন, ‘আর্থ’-এর মতো ছবির গুরুত্ব সময়ের সঙ্গে আরও বাড়ে এবং তিনি চেয়েছিলেন নতুন প্রজন্মের কাছে ছবিটি আরও সহজলভ্য হোক।

‘পিঞ্জর’: দেশভাগের সবচেয়ে বড় শিকার কারা?
অমৃতা প্রীতমের উপন্যাস অবলম্বনে চন্দ্রপ্রকাশ দ্বিবেদীর ‘পিঞ্জর’(২০০৩) দেশভাগের গল্পকে নারীর শরীর ও পরিচয়ের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করেছিল। ঊর্মিলা মাতন্ডকর অভিনীত চরিত্রটি দেশভাগের সহিংসতায় এমনভাবে বদলে যায়, যেখানে তার নিজের শরীর, পরিবার, ধর্ম, ভালোবাসা—সবকিছুর ওপর অন্যরা সিদ্ধান্ত নিতে থাকে।
ছবিটির অন্যতম শক্তি ছিল, এটি ‘ভারতীয় বনাম পাকিস্তানি’ ধরনের সহজ বিভাজনে আটকে থাকেনি। সমালোচকেরাও ছবিটির এই দিকটির প্রশংসা করেছিলেন।
দেশভাগের ছবিতে ‘পিঞ্জর’ তাই গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বাঁক, এখানে যুদ্ধ বা সীমান্তের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে একজন মানুষের হারিয়ে যাওয়া জীবন।

‘খামোশ পানি’: সীমান্তের ওপার থেকেও একই ক্ষত
দেশভাগের গল্প শুধু বলিউডের একচেটিয়া বিষয় নয়। পাকিস্তানি নির্মাতা সাবিহা সুমারের ‘খামোশ পানি’ (২০০৩) এই ইতিহাসকে পাকিস্তানের ভেতর থেকে দেখেছিল। ১৯৭৯ সালের পাকিস্তানের পটভূমিতে নির্মিত ছবিতে ১৯৪৭-এর স্মৃতি ফিরে আসে এক বিধবা মা ও তাঁর ছেলের জীবনে। ছবিটি লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন লিওপার্ডসহ একাধিক পুরস্কার পায়।

তারপর এল ‘গদার’: ইতিহাস থেকে বিনোদন
২০০১ সালের ‘গদার: এক প্রেম কথা’ দেশভাগের সিনেমাকে সম্পূর্ণ অন্যদিকে নিয়ে যায়। সানি দেওলের তারা সিং পাকিস্তানে গিয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে ফিরিয়ে আনার লড়াই করে। দেশভাগ এখানে আর কেবল মানবিক ট্র্যাজেডি নয়; এটি হয়ে ওঠে অ্যাকশন, প্রেম, আবেগ ও জাতীয়তাবাদের বিশাল ক্যানভাস। ছবিটি হিন্দি সিনেমার অন্যতম বড় ব্লকবাস্টারে পরিণত হয়। ২০২৬ সালে মুক্তির ২৫ বছর পূর্তিতেও ছবিটির জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হয়েছে।

এখানেই বোঝা যায়, কেন বলিউড বারবার দেশভাগে ফিরে আসে। বিষয়টির মধ্যে একই সঙ্গে ইতিহাস, আবেগ, দেশপ্রেম, পারিবারিক নাটক, প্রেম ও অ্যাকশন ঢোকানো সম্ভব।

‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’: পুরোনো ক্ষত, নতুন প্রজন্ম
এই ধারাতেই ২০২৬ সালে এল ইমতিয়াজ আলীর বহুল প্রশংসিত সিনেমাটি। দিলজিৎ দোসাঞ্জ, শর্বরী, বেদাং রায়না ও নাসিরুদ্দিন শাহ অভিনীত ছবির কেন্দ্রে রয়েছে এক বৃদ্ধের স্মৃতি। দেশভাগের সময় হারিয়ে যাওয়া প্রেমের কাছে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কয়েক দশক পরও তাঁর মধ্যে বেঁচে থাকে।

‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’র সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, এখানে স্মৃতিভ্রংশ কেবল একটি অসুস্থতা নয়; বরং অতীতে ফিরে যাওয়ার এক অদ্ভুত দরজাও। বৃদ্ধ যখন বিচ্ছিন্ন নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন, তখন তাঁর নাতি সেগুলোকে অর্থহীন প্রলাপ হিসেবে নেয় না। সে প্রতিটি শব্দের অর্থ খোঁজে, প্রতিটি বিচ্ছিন্ন স্মৃতিকে জোড়া লাগানোর চেষ্টা করে। ধীরে ধীরে বোঝা যায়, তাঁর বলা প্রতিটি অদ্ভুত শব্দের পেছনে রয়েছে কোনো না কোনো স্মৃতি। এই অনুসন্ধানই ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’–কে বিশেষ করে তোলে। কারণ, বৃদ্ধের স্মৃতি উদ্ধারের চেষ্টা আসলে একটি হারিয়ে যাওয়া প্রেমের গল্প উদ্ধারের চেষ্টা। একই সঙ্গে এটি ইতিহাসকে মানুষের গল্প হিসেবে বোঝার চেষ্টাও। নাতি জানে, যারা ভালোবাসার গল্প হারিয়ে ফেলেছে, তাদের সঙ্গে যদি সেই ভালোবাসাও হারিয়ে যায়; তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ঘৃণাই হয়তো উত্তরাধিকার হিসেবে থেকে যাবে।

তাহলে একই গল্প বারবার কেন?
দেশভাগ নিছক ইতহাস নয়। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ—তিন দেশেই অসংখ্য পরিবারের স্মৃতিতে এর ছাপ রয়েছে। দাদা-দাদির গল্প, ফেলে আসা বাড়ির ছবি, পুরোনো চিঠি, হারিয়ে যাওয়া আত্মীয়—এসব পরবর্তী প্রজন্মের কাছেও গল্প হয়ে পৌঁছেছে। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েন, সীমান্ত, কাশ্মীর, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি—সবকিছুর সঙ্গে ১৯৪৭-এর উত্তরাধিকার কোনো না কোনোভাবে যুক্ত। তাই দেশভাগ নিয়ে ছবি বানানো মানে শুধু অতীতকে দেখানো নয়; অনেক সময় বর্তমানকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা। তাই ৭৯ বছর পরও দেশভাগের গল্প ফুরায় না।

কারণ, দেশভাগের সবচেয়ে বড় ক্ষতটি কোনো মানচিত্রে ছিল না। মানচিত্রে দেশভাগ হয়েছিল ১৭৪৭ সালে; কাগজে–কলমে তখন সে হিসাব শেষ। কিন্তু ভাগ হয়ে যাওয়া মানুষের গল্প শেষ হয়নি, প্রজন্মের পর প্রজন্মে ফিরে আসে নতুন করে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও আইএমডিবি অবলম্বনে

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৪৮:২৯   ২ বার পঠিত  




ছবি গ্যালারী’র আরও খবর


জাপানে ভারী বৃষ্টিতে ৫ জনের মৃত্যু
তার্কিশ এয়ারলাইন্স হাফ ম্যারাথন ১৮ সেপ্টেম্বর
দক্ষিণ সুদান ও আবেই মিশন এলাকা পরিদর্শন শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান
শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা: অর্থমন্ত্রী
ভারতের প্রতি নেতিবাচক ধারণা পোষণকারী মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশে বেড়েছে
নৌপথে চাঁদাবাজি-অপহরণ বন্ধের দাবি ২৭ গ্রামের মানুষের
আবারও হকিতে বিশ্বকাপ খেলতে চায় বাংলাদেশ
১৭০০ পিস ইয়াবাসহ সোনারগাঁয়ে চিহ্নিত মাদক কারবারি স্বপন গ্রেফতার
ডিএসসিসির উদ্যোগে ‘ঢাকা হেরিটেজ সাইকেল র‍্যালি’ অনুষ্ঠিত
নারায়ণগঞ্জ ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে বাউল শিল্পী আহত

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ