
রাজধানী ঢাকার প্রতি মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে আজ সকালে ঐতিহাসিক ‘ঢাকা হেরিটেজ সাইকেল র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি এবং ১ আগস্ট ‘ঢাকা দিবস’ উপলক্ষে ডিএসসিসির উদ্যোগে ১ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাসব্যাপী “হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬” উৎসবের অংশ হিসেবে এই র্যালির আয়োজন করা হয়।
সকাল ৭টায় ঐতিহাসিক ঢাকা গেট থেকে শুরু হওয়া এই র্যালি উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম।
প্রায় ৩০০ জন নাগরিক এই সাইকেল র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। র্যালিটি ঢাকা গেট হতে শুরু হয়ে টিএসসি মোড় হয়ে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের সামনে দিয়ে নগর ভবনে এসে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারী প্রত্যক সাইক্লিস্টকে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে পদক ও সনদ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা আমাদের প্রাণের শহর, ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। ঢাকাকে ঘিরেই আগামী বাংলাদেশ। তাই একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, এমন একটি ঢাকা প্রয়োজন, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ থাকবে এবং স্বাচ্ছন্দ্য পরিবেশ পাবে। তরুণেরা যাতে সাইকেল নিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ পায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে।
একটি নিরাপদ, সুন্দর, পরিবেশবান্ধব এবং নাগরিকদের বাসযোগ্য ঢাকা সিটি গড়ে উঠবে এই প্রত্যাশায় প্রতিমন্ত্রী ঢাকা হেরিটেজ সাইকেল র্যালির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, চার শতাধিক বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ রাজধানী ঢাকার সঙ্গে নাগরিকদের আত্মিক ও মমত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করা আজ সময়ের দাবি। নগরীর ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিচিতি ও সম্পৃক্ততার অভাবে অনেকের মধ্যেই ঢাকার প্রতি কাঙ্ক্ষিত মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীল নাগরিক চেতনা গড়ে ওঠেনি। এর প্রভাব পড়ছে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক শৃঙ্খলা, পরিবেশ সংরক্ষণসহ নাগরিক জীবনের নানা ক্ষেত্রে।
ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নাগরিকদের সামনে নতুনভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে নগরের প্রতি ভালোবাসা, মমত্ববোধ এবং দায়িত্বশীলতার চেতনা জাগ্রত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ‘আমার শহর, আমার দায়িত্ব’—এই উপলব্ধিকে নাগরিক জীবনের অংশ করে তুলে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, সচেতন ও বাসযোগ্য “ক্লিন সিটি গ্রিন সিটি” গড়ে তুলতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম প্রত্যাশা।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫২:০০ ২ বার পঠিত