বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কালকিনিতে সরকারি নিয়ম ভেঙে কলেজের ৫টি গাছ কর্তন: অধ্যক্ষ ও ইজারাদারের বাকযুদ্ধ

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » কালকিনিতে সরকারি নিয়ম ভেঙে কলেজের ৫টি গাছ কর্তন: অধ্যক্ষ ও ইজারাদারের বাকযুদ্ধ
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬



কালকিনিতে সরকারি নিয়ম ভেঙে কলেজের ৫টি গাছ কর্তন: অধ্যক্ষ ও ইজারাদারের বাকযুদ্ধ

কালকিনি প্রতিনিধিঃ মাদারীপুরের কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পুকুরপাড় থেকে সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে পাঁচটি মূল্যবান গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে গাছ কাটার এই ঘটনায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হান্নান দাড়িয়া ও পুকুরের ইজারাদার সুরাত আলী সিকদার পরস্পরকে দায়ী করছেন।
​বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরজমিনে কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরপাড়ে কেটে রাখা বেশ কয়েকটি মেহগনী ও চাম্বুল গাছের গুঁড়ি ও কাটা ডালপালা পড়ে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি পুকুরপাড়ের পরিবেশ রক্ষা ও নান্দনিকতার অংশ হিসেবে থাকা ৪টি বড় মেহগনী এবং ১টি চাম্বুল গাছ কেটে ফেলা হয়।
​অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুকুরের ইজারাদার সুরাত আলী সিকদার বলেন, “ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের প্রত্যক্ষ নির্দেশেই আমি গাছগুলো কেটেছি। অধ্যক্ষের অনুমতি বা নির্দেশনা ছাড়া কলেজের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার সাধ্য আমার নেই।”
​তবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হান্নান দাড়িয়া নির্দেশনা দেওয়ার কথা পুরোপুরি অস্বীকার না করলেও পাঁচটি গাছ কাটার দায় নিতে নারাজ। তিনি দাবি করেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মৌখিক সম্মতি নিয়ে ইজারাদারকে কেবল একটি নির্দিষ্ট গাছ সরাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু আমার অগোচরে কীভাবে অতিরিক্ত আরও চারটি গাছ কাটা হলো, তা আমার বোধগম্য নয়।”
​সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কেটে ফেলার এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশপ্রেমীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সরকারি কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ বিক্রয় ও অপসারণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত টেন্ডার ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। অনতিবিলম্বে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তাঁরা।
​এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিশোর কুমার দাশ জানান, “সরকারি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতে একাধিক গাছ কাটার সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বাংলাদেশ সময়: ১২:৩১:৩৩   ৬৪ বার পঠিত