
বর্তমান সরকারের আমলে সাংবাদিকরা মন খুলে লিখতে পারছেন বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেছেন, বিগত ১৫ বছর ফ্যাসিস্টরা সংবাদপত্রের গলা টিপে ধরেছিল।
তারা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে সব রকমের চেষ্টা ও ফন্দিফিকির করেছিল।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর সদরে বসুন্ধরা গ্রুপের দেওয়া জমিতে বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জোনায়েদ সাকি বলেন, বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছিল। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর টানা চার মেয়াদে ক্ষমতায়।
এই ১৫ বছরে মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে ৪৪ ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার বিষয়টি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার এবং গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করতে আইনি, প্রশাসনিক ও পরোক্ষ নানা চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল।
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের প্রকাশক ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের স্থানীয় সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ১৯৯৫ সালের কথা।
তৎকালীন হাতেগোনা কয়েকজন সংবাদকর্মী আমার মাধ্যমে প্রেস ক্লাবের জন্য জায়গা চেয়ে আবেদন করেন। আমি সেটি চেয়ারম্যানের কাছে ফরোয়ার্ড করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেটি মঞ্জুর করে ৬ শতক জায়গা কেনার জন্য সহায়তা করেন। দীর্ঘ ৩০ বছর পরে হলেও সেখানে একটি ভবন হয়েছে। জায়গাটা কাজে লেগেছে। সংবাদকর্মীদের নতুন একটি ঠিকানা হলো।
বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামিম শিবলীর সঞ্চালনায় ও মোল্লা মোহাম্মদ নাসিরের সভাপতিত্বে প্রেস ক্লাব ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক এমপি এম এ খালেক পিএসসি, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল এমরান খান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক ভিপি এ কে এম মুছা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছালে মুছা, সাবেক ভিপি ও জেলা বিএনপির সদস্য নাজমুল হক, ভিপি আমিরুল ইসলাম সাজ্জাদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দুধ মিয়া মাস্টার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ও সাংবাদিকতা নিয়ে গঠনমূলক বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন ও সাধারণ সম্পাদক বাহার উদ্দিন মোল্লা।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৫০:০১ ২ বার পঠিত